‘মারধরের শিকার হয়েছি’, বিস্ফোরক দাবি অনূর্ধ্ব-২০ কোচের 

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের মিশন সামনে রেখে উজবেকিস্তানে উড়াল দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পুলিশ ডাকার গুঞ্জন যখন চারদিকে ডালপালা মেলছিল, ঠিক তখনই বোমা ফাটিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস।

সহকারী কোচের সঙ্গে বিবাদের খবর উড়িয়ে দিয়ে এই ব্রিটিশ কোচ উল্টো অভিযোগ করেছেন যে, তিনি কর্মক্ষেত্রে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে 'স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার জন্য' শীর্ষক একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি। তার এই বক্তব্যেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

এর আগে দেশের কয়েকটা শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত বুধবার ঢাকার হোটেল হলিডে ইনে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে জোনসের তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জোনস ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডেকেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এছাড়া উজবেকিস্তান সফরে মিশুকে দলে না রাখা এবং এর আগে যশোরের ট্রেনিং ক্যাম্পে স্প্যানিশ গোলকিপিং কোচ হোসে মার্তিনেজের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তবে নিজের বিবৃতিতে এসব গুঞ্জন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন জোনস। সহকারী কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা এড়িয়ে গিয়ে তিনি ফেসবুকে নিজের বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘আমি সম্প্রতি কর্মক্ষেত্রে একটি গুরুতর ঘটনার শিকার হয়েছি যেখানে এক হামলায় আমি শারীরিক আঘাত পেয়েছি এবং আমাকে আত্মরক্ষা করতে হয়েছে।’

ভুল তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমি এও জানি যে কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা একেবারেই সত্য নয় এবং যা দেশের সুনামের জন্য ক্ষতিকর পাশাপাশি আমাকেও বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার উপযুক্ত প্রমাণ বা সাক্ষ্য তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), পুলিশ এবং ব্রিটিশ দূতাবাসে জমা দিয়েছেন। তবে গোলকিপিং কোচের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘গোলকিপিং কোচদের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা নেই। হোসে এবং হিমেল দুজনেই অসাধারণ। মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছি এবং আমাদের বোঝাপড়াও দারুণ।’ 

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তিনি এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে শঙ্কা প্রকাশ করে সাহায্য চেয়েছেন, যার সুরাহা এখনো হয়নি। চলমান এই ঘটনায় তার পরিবার ও সন্তানরাও বেশ আতঙ্কিত বলে জানান। তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে আসন্ন উজবেকিস্তান সফরকে সামনে রেখে দল যেন সম্পূর্ণরূপে ফুটবলেই মনঃসংযোগ ধরে রাখে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন এই ব্রিটিশ কোচ।

আগামী ২৭ আগস্ট দলের উজবেকিস্তান উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গত সোমবার ফর্টিস এফসির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে দলকে তদারকিও করেছেন জোনস। তবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।