ফ্রান্স ও সৌদি আরব প্যারিসের কাছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বিনোদন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
সোমবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আল জাজিরা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারিসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেরজি-পন্তোয়াজ এলাকায় তিনটি থিম পার্ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবে সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগ শাখা কিদ্দিয়া। এতে প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ম্যাক্রোঁ প্রকল্পটিকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ডিজনিল্যান্ড প্যারিসের মতো একটি ‘নতুন বৈশ্বিক গন্তব্য’ তৈরি করবে। ফরাসি দক্ষতার ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি সৌদি আরব ও কিদ্দিয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তার ‘চুজ ফ্রান্স’ উদ্যোগের জন্যও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রকল্পটির ধারণার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে।
থিম পার্ক প্রকল্পের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিমান চলাচলে অর্থায়ন, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে একাধিক চুক্তি সই হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতেও একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, এআই প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রশিক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ফরাসি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। রিয়াদ নতুন কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে এবং ফ্রান্সও দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
এ ছাড়া ফরাসি কোম্পানি সিএমএ সিজিএম সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের জেদ্দা ইসলামিক বন্দর উন্নয়নে ৪৩৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। রেল পরিবহন প্রতিষ্ঠান আলস্টম রিয়াদ মেট্রোর জন্য ট্রেন সরবরাহে ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেয়েছে।
মোহাম্মদ বিন সালমানের ফ্রান্স সফরের সময় দুই দেশের নেতারা বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকট নিয়েও যৌথ অবস্থান তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তারা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়েও তারা আলোচনা করেন। গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথিদের হামলার নিন্দা জানানো হয়। সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন দুই নেতা।
ফ্রান্সে সৌদি যুবরাজের এটি তৃতীয় সরকারি সফর। একই সঙ্গে চলতি মাসে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ঐতিহ্যগত অংশীদারদের বাইরেও নতুন সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে।