জামালপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় কাউসার আটক

জামালপুরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ইসরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে নিহত মিমি ও কাউসার আহমেদ খানের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়, দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি কাউসার আহমেদ খানকে আটক করেছে পিবিআই।
 
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর শহরের পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
 
পিবিআই জানায়, গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়ার ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিহত ও কাউসারকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জানা গেলেও তদন্তে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। 
তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে মিমির বিয়ে হয় শাওন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে জামালপুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মিমি।
 
পিবিআইয়ের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের ‘রাফি স্টোর’ দোকানে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে মিমি কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
 
পিবিআই আরও জানায়, এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে বাসায় ডেকে টাকা দাবি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
 
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসার আহমেদ খানকে আটক করে পিবিআই।
 
আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাউসারকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।