লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে এক যুবককে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় লোকজনের তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এ সময় বিএসএফের ফেলে যাওয়া দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছেন উত্তেজিত গ্রামবাসীরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি আমঝোল সীমান্তের ৯০৭/৪-এস মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তসংলগ্ন নিজস্ব জমি থেকে বাবা দুলাল মিয়া কাজ শেষে দুপুরের খাবার দিতে যান মা। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য সীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকে মারমুখী আচরণ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের ছেলে লিটন মিয়া (২৮) মাকে সেখান থেকে ডাক দিলে বিএসএফ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে লিটনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং টেনে-হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
লিটনের আত্চিৎকার শুনে আশপাশের ধানক্ষেত ও গ্রাম থেকে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিএসএফের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তোপের মুখে পড়ে নিজেদের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বিজিবির বনচৌকি ক্যাম্পে জমা দেন।
ভুক্তভোগী লিটন মিয়া বলেন, বাবা ক্ষেতে কাজ করছিলেন, মা ভাত নিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা কাছে এগোয়। আমি মাকে সরে আসতে বললে বিএসএফের দুজন লোক আমাদের সীমান্তে ঢুকে আমাকে মারতে মারতে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে গ্রামের মানুষ এসে আমাকে রক্ষা করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি বলেন, উত্তেজিত জনতা বিএসএফের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচনার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বনচৌকি আমঝোল সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পতাকা বৈঠকের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।