হরমুজ সংকট কাটাতে যে সিদ্ধান্ত নিল ইরান-ওমান

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি বিকল্প নৌপথ বা করিডোর তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে ইরান ও ওমান। একই সঙ্গে সমুদ্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে জমে থাকা মাইন অপসারণে যৌথ প্রকল্প চালুর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য পর্যায়ভিত্তিক রূপরেখা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আশা প্রকাশ করে জানান, দুই দেশ খুব শিগগিরই এই সাময়িক নৌ করিডোরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। তিনি আরও জানান, প্রণালীর স্থায়ী ব্যবস্থাপনা এবং স্থায়ী সমাধান নিয়ে যথাসময়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত রূপরেখার আওতায় একটি সাময়িক যৌথ নৌ চলাচল করিডোর গঠন এবং মাইন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী করিডোর তৈরি, তথ্য বিনিময়, নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সেবার মতো বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালু থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে এবং জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল এক প্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় এবং বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দুই উপকূলীয় দেশ হরমুজ প্রণালীতে নতুন নিয়ম চালু ও মাইন সরানোর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রস্তাবিত নৌপথের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক (জিপিএস পয়েন্ট) নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ মার্কিন নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সমস্ত মাইন অপসারণ বা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো জাহাজ আবার মাইন পুঁততে এলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

বৈঠকে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, উপকূলীয় অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যাতে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে সম্পাদিত হয়।