সৌদি প্রো লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে আল-নাসর। নাটকীয়তায় ভরপুর এই ম্যাচে শুরুতে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া, অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চরম ক্ষোভ, বিরতিতে তাকে তুলে নেওয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সাদিও মানের শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এটি ছিল স্মরণীয় এক রাত।
শুরুর বিপর্যয় ও রোনালদোর ক্ষোভ
ম্যাচের শুরুটা আল-নাসরের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার মুসা দেম্বেলেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন গোলরক্ষক বেন্টো। বাধ্য হয়ে ১৮ বছর বয়সী বদলি গোলরক্ষক আবদুর রহমান আল-ওতাইবিকে মাঠে নামানো হয়। কিন্তু তিনি দলের ত্রাতা হতে পারেননি। ৩১ মিনিটে ওন্দ্রেই দুদা এবং এর কিছুক্ষণ পরই আলভারো মেদ্রানের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আল-ইতিফাক।
প্রথমার্ধে দলের এমন ছন্নছাড়া অবস্থার পর বিরতিতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন কোচ আনজে পসটেকোগলু। তিনি খোদ রোনালদোকেই মাঠ থেকে তুলে নেন এবং তার জায়গায় মাঠে নামান আবদুল্লাহকে। বিরতির সময় রোনালদোকে চরম ক্ষুব্ধ অবস্থায় টানেলের দিকে যেতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন আল-নাসর কোচ। "রোনালদোকে তুলে নেওয়াসহ আমি যখন বদলির সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছিলাম, তখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে নতুন যারা মাঠে নামবে তারা ম্যাচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে। আমি এখানে দলকে সাহায্য করতে এসেছি এবং আমি বদলি খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত, কারণ তারা প্রত্যেকেই মাঠে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।"
সাদিও মানের জাদু ও রূপকথার জয়
কোচের সেই সাহসী কৌশল দ্বিতীয়ার্ধে জাদুর মতো কাজ করে। মাঠে নতুন এনার্জি নিয়ে আসা বদলি খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত লড়াইয়ের সুফল পেতে শুরু করে আল-নাসর। ৭৪ মিনিটে হোয়াও ফেলিক্সের দারুণ এক পাস থেকে গোল করে দলকে লড়াইয়ে ফেরান সাদিও মানে। এর মাত্র তিন মিনিট পর (৭৭ মিনিটে) ফেলিক্সের কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে স্কোরলাইন ২-২ করেন আবদুলেইলাহ আল-আমরি।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে (৯০ মিনিট) আবারও জ্বলে ওঠেন সাদিও মানে। ভিএআর চেকিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া এই গোলে নিজের জোড়া পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এমন জয়ের পর সাধারণত অধিনায়ক হিসেবে রোনালদোই সমর্থকদের সাথে উদযাপন করতে এগিয়ে যান। কিন্তু এই ম্যাচে জয় শেষে তাকে মাঠে দেখা যায়নি।
ম্যাচ শেষে সাদিও মানে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বলেন, “১০ জন নিয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতাই আমাদের প্রতিটি ম্যাচে ধরে রাখতে হবে। আমরা পুরো দলকে দেখিয়ে দিয়েছি কীভাবে জিততে হয়।”