বসতবাড়িতে ‘মাতৃছায়া’, ভুয়া চিকিৎসকের চিকিৎসা-বাণিজ্যের অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো এলাকায় বসতবাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে ‘মাতৃছায়া মেটারনিটি কেয়ার’ নামে চেম্বার খুলে প্রসূতি ও গাইনি চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা আফসার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ভুয়া ডিগ্রি ও বিএমডিসির ভুয়া নিবন্ধন নম্বর ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি তার কাছে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে নারায়নহাট ইউনিয়নের চানপুর এলাকার এক গৃহবধূর নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) হেয়াকো বাজারের চেয়ারম্যান সড়কের জয়নাল সওদাগরের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চার কক্ষের একটি সেমিপাকা ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রোকসানা আফসার। এর একটি কক্ষকে রোগী দেখার চেম্বার ও ডেলিভারি কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সেখানে প্রসূতি সেবা ও সন্তান প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যবস্থা দেখা যায়নি। 

প্রসূতি হাসিনা আক্তার জানান, গত ৯ আগস্ট সন্তান প্রসবের জন্য রোকসানা আফসারের কাছে গেলে স্বাভাবিক প্রসবের সময় তার একটি মৃত সন্তান জন্ম নেয়। পরে এ সেবার জন্য তার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরদিন রোকসানার দেওয়া ওষুধ সেবনের পর তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোকসানা আফসারের ব্যবস্থাপত্রে নিজেকে বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসক দাবি করে ‘ডি-৮৬৩১’ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম জানিয়েছেন, ব্যবহৃত বিএমডিসি নম্বরটি ভুয়া।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএমএফ সম্পন্নকারীরা নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচার কিংবা জটিল গাইনি চিকিৎসা করারও তাদের অনুমতি নেই। ম্যাটস ডিপ্লোমাধারী কেউ নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবেও পরিচয় দিতে পারেন না।

অভিযোগের বিষয়ে রোকসানা আফসার কোনো বৈধ সনদ বা সরকারি অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ‘বাসাবাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে চেম্বার খুলে প্রসূতি সেবা বা সন্তান প্রসব করানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি এতদিন আমাদের জানা ছিল না। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’