মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার। 

২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই এমওইউ কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে বলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক এজেন্সিকে তারা নিজেরাও চেনেন না। তার অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এতে বড় ধরনের দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিন্ডিকেট বা এ ধরনের তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটিকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর চাহিদার জন্য অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগকর্তাকে লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

এরপর অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহের পর কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।