ইসলামাবাদে ১৫ শিশুর মৃত্যু

বন্ধ দরজা, ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা: শোকার্ত স্বজন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আগুনে ১৫ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত শিশুদের স্বজনেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।

রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়,  আগুনে নিহত এক নবজাতকের বাবা অভিযোগ করে বলছেন, তিনি আগুনের পর নিজের শিশুকন্যাকেও দেখতে পারেননি। ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স, ইসলামাবাদ’ নামের ওই হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পিতা বলেন, ‘ওয়ার্ডটির অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আমি আট দিন ধরে সেখানে যাচ্ছি, পরিস্থিতি ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ভবনে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, বের হওয়ার পথও ছিল বন্ধ; সব দরজা বন্ধ ছিল।’

‘শিশুদের দেখতে যাওয়ার জন্য মাত্র একটি দরজা খোলা রাখা হতো। অন্য দরজাগুলো তালাবদ্ধ রাখা হতো। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করত, আমরা ঘন ঘন শিশুদের দেখতে যাব,’ উল্লেখ করেন তিনি।

তবে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালকের দাবি করে বলেন, প্রসূতি ওয়ার্ডের দরজা তালাবদ্ধ ছিল না। সেখানে একজন কর্মী দায়িত্বে থাকতেন। শিশু চুরির আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির কার্যপরিধিতে হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত ও কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বাইরে স্বজনেরা জড়ো হন। সেখানে অনেক পরিবারকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা এক বিবিসি সংবাদদাতা জানান, এক ব্যক্তি তাকে বলেছেন, আগুনে তার তিন দিন বয়সী নবজাতকও মারা গেছে। 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।