নামাজ ছাড়বেন না, অন্যের হক নষ্ট করবেন না: শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।

তিনি বলেছেন, মহানবী (দ.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়, মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্যও অনুসরণীয়। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী (দ.)-এর পৃথিবীতে আগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। তিনি সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, হাশরের মাঠে কোনো আমলনামা কবুল না হলেও দরুদ কবুল হবে। তাই সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের আহ্বান জানান তিনি।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মিলাদ আগে, সিরাত পরে।’ শবে বরাতসহ ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যারা বিরোধিতা করেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ইয়াজিদের ইসলামের পক্ষে, আর আমরা হোসাইনী ও মদিনার ইসলামের পক্ষে।

নামাজের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আল্লাহর নামে নামাজ শুরু হয়। তাই নামাজ কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না। একই সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং অন্যের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শুধু আনন্দ-উৎসবের বিষয় নয়; মহানবী (দ.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করারও দিন। তাঁর সুন্নাহ ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণের মধ্য দিয়েই এ দিনের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুফতি আব্দুল মতিন চাঁদপুরী, মুফতি নজরুল ইসলাম রেজভী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আশেকান ও ভক্তরা অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে জশনে জুলুশ বের হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হওয়া জুলুশটি মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে জোহরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।