এবার নারী দলের কোচিং স্টাফে অসন্তোষ; শোকজ আর ইস্তফা

বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ ফুটবল দলে কোচিং স্টাফে চলছে অভ্যন্তরীন কোন্দল। পুরুষ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ব্রিটিশ প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর হাতাহাতির ঘটনা এখন আলোচনামুখর। এর মধ্যেই সামনে এসেছে নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচিং স্টাফের অসন্তোষ ও মনোমালিন্যের ঘটনা। এরই মধ্যে কোচিং স্টাফের সদস্য মিরোনা আক্তারকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অন্যদিকে কোচিং স্টাফ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন উম্মে হাফসা রুমকি।

বাফুফের হেড অব একাডেমি হিসেবে দায়িত্বে থাকা জাতীয় নারী দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বর্তমানে নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন। এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কাজে তিনি রাজশাহী স্টারসের দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় দুই সপ্তাহ নারী দলের দেখভাল করেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই টিটুর সঙ্গে নারী দলের কোচিং স্টাফের কয়েকজনের দূরত্ব তৈরি হয়। নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচিং স্টাফে রয়েছেন মাহবুবুর রহমান লিটু, অনন্যা, মিরোনা ও ইমন।

অনুশীলনের সময় ফুটবলারদের সামনেই অধস্তনদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টিটুর বিরুদ্ধে। নারী দলের অনুশীলনেও কোচিং স্টাফদের ভুল নিয়ে তিনি নিয়মিত মন্তব্য করতেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এতে কোচিং স্টাফের কয়েকজনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে টিটুর সঙ্গে মিরোনার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। অনুশীলনের মাঠে ফুটবলারদের সামনেই মিরোনা বাঁশি ছুড়ে ফেলে মাঠ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হয় বাফুফে এবং মিরোনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বিষয়টি নিশ্চিত করে মিডিয়িাকে বলেন, দ মিরোনার শোকজের বিষয়টি অবগত। তার জবাবের প্রেক্ষিতে পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।‘

মিরোনা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু শোকজের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাইফুল বারী টিটুও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বরং মিরোনার কথা শুনেই এই প্রতিবেদকের উপর চড়াও হয়ে বলেন, দআপনি কি কারো পক্ষ নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিয়েছেন?‘

অন্যদিকে রীতিমতো আবেদন করে উম্মে হাফসা রুমকি চাকরি ছেড়েছেন বলে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে। অন্য আরেকটি সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পে থাকাকালে সহকর্মীর সঙ্গে তার অবৈভ আচরনের খবর প্রকাশ পেয়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে কোচিং স্টাফের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন রুমকি।