চাঁদপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও এস কে শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাস পরিবারসহ ১০ দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। লাপাত্তা হওয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- তার স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। পিন্টু দাসের এই হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এস কে শিল্পালয়’ গত ১০ দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর শহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাসকারী এই ব্যবসায়ী বহু মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপে পড়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিন্টু দাস দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে স্বর্ণ বন্ধক রাখলেও, সময়মতো গ্রাহকদের সেই স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকেও মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
ভুক্তভোগী রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার মাত্র ৫০ হাজার টাকায় পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ আনতে গেলে তাকে পরদিন আসার কথা বলা হয়। কিন্তু পরদিন গিয়ে তিনি জানতে পারেন পিন্টু দাস সপরিবারে উধাও হয়ে গেছেন। রাসেল খান আরও জানান, পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, পিন্টু দাসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ট্রেস করে দেখা গেছে, গত ২০ আগস্ট থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যম থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতেই তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে গেছেন। তাকে ও তার পরিবারকে সনাক্ত করতে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।