নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রুফটপ সোলারের সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সারাদেশে একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সরকারের নতুন কাঠামোর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, রুফটপ সোলার ব্যবসাকে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা ও বিনিয়োগ প্যাকেজ তৈরি এবং সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার, দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।