ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে অধিবেশন কক্ষ তীব্র হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিরসন হয়। এ সময় স্পিকার চলতি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রথম দিনের অধিবেশনের শেষদিকে বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় জোট। এদিকে মন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদের আসনে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশের আসন এটা।
বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে সংসদে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। মাসুদ তার প্রশ্নে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মিথ্যা মামলা নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে মনোযোগী না থাকায় প্রশ্নের প্রথম অংশটি বুঝতে পারেননি বলে উল্লেখ করে আবারও প্রশ্নের অনুরোধ করেন। পরে স্পিকার তাকে ফ্লোর দিলে দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করেন। প্রশ্নে মাসুদ বলেন, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ্য করছি যে দিনে দুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই হচ্ছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা হামলার শিকার হওয়ার প্রেক্ষিতে মামলা হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার না করে বরং তার প্রেক্ষিতে যে মিথ্যা ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় ওই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদক্ষেপ জানতে চাই। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই প্রশ্নকে শাহবাগ স্কয়ারের বক্তব্য আখ্যায়িত করে বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না। তার এই বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। তারা হইচই করতে থাকেন। বিরোধীদলের বেশ কয়েকজন সদস্য আসন থেকে দাঁড়িয়ে যান। তাদের বিরোধিতার এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্র বলেন, ‘আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলি নাই।’ তখনও বিরোধীদলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন সালাহউদ্দিন বলেন, স্পিকার আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।
বিরোধীদল হইচই অব্যাহত রাখলে এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তার আসনে বসে পড়েন। বিরোধীদলের অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, বিরোধীয় দলীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা অনুগ্রহ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনবেন। তিনি বার বার বসতে বলার অনুরোধ করলেও বিরোধীদল তাতে কর্ণপাত করেননি। উল্টো তারা চিৎকার-চেঁচামেচির মাত্রা বাড়িয়ে দেন। এ সময় স্পিকার বলেন, এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছা মতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন।
বিরোধী দলকে কথা বলার জন্য মাইক দেওয়া হবে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এইভাবে ঢালাও না বলে মাইকে বললে তো সবাই শুনতে পায়। আপনাদেরকে সুযোগ দেওয়া হবে। যখন সুযোগ পাবেন, মাইকে বলবেন। আপনাদেরকে স্পিকারের আসন থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে অনুগ্রহ করে বসুন। আপনাদের তো উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সময়ে বিরোধী দলীয় নেতা দাঁড়িয়ে ফ্লোর চান। তখন স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেবেন বলে জানান। তখন বিরোধীদলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য শুরু করেন। এরপরও বিরোধীদল চুপ না হলে স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পিকারের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তখনই বিরোধীদলের প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। ওই সময় বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি বিরোধীদলের নেতাকে দেবো।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয় নাই সেটার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দরকার। শুধু আমভাবে যদি বলা হয় যে এই সমস্ত হচ্ছে প্রতিকার কি বিরোধী এমপির উপর হামলা হচ্ছে প্রতিকার কি, নির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে। সেজন্য বলছি এটা মহান জাতীয় সংসদ।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেন স্পিকার। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বলেন, আমাকে আগে সুযোগ দিলে উনার কথাটা শুনতে পেতাম। এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের কেউ কেউ বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশে করে কিছু বলতে থাকেন। তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন না আমি দেব? আপনি দেন।’
স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সবাইকে। আমি বুঝতে পারি না উনি নিজেকে কী মনে করেন। এমনকি তিনি এখানে দাঁড়িয়ে সেই দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন, ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে। উনার লেকচার শুনবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমার সঙ্গীরা তো মনে করে আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচারাল নয়, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের সৌন্দর্য রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। এটা হলে বিরোধীদল সংসদ কক্ষে থাকবে। না হলে অপমান নিয়ে এখানে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিরোধীদলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্য সমর্থন জানান।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন করার জন্য সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। সংসদ দেশের গর্ব জনগণের প্রতিষ্ঠান। কিছু আইন-কানুন রীতি-নীতি অনুসারে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে রুলস অফ প্রসিডিউর ফলো করা না হলে সংসদ কার্যকর থাকে না।
স্পিকার কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গভীর দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবির জবাবে স্পিকার বলেন, তিনি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন, অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করবেন।
বিরোধীদলের প্রতি উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। আপনারা যে কয়জন আছেন তার তিন গুণ এপাশে (সরকারি দলে) আছে। সুতরাং শব্দ করে এর বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন। আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধিমতো নিরপেক্ষভাবেই সংসদ পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে বলেন, আজকের বিষয়টা একবারে স্পষ্ট। এটা তো আর পরীক্ষা করে দেখার কোনো বিষয় নেই। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষের দিকে গিয়ে একটু বললেন যে, এইদিকের চাইতে ওইদিকে তিন গুণ আছেন। এটা এটা তো ভালো লাগল না। আমি এই সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই। আমরা প্রথম দিক থেকে বলেছি ভালো কাজে আমরা সবাই এক হব। একসাথে কাজ করব। অন্যায় কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করব। আমরা সেই প্রতিবাদ করেছি হয়তো এই প্রতিবাদ কারো পছন্দ হবে কারো পছন্দ হবে না সেটা ভিন্ন। কিন্তু আমি মনে করি যে এই ধারায় আমাদেরকে হ্যান্ডেল না করলে খুশি হব।
পরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি। এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে সেজন্য সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব এখানে রয়েছে।
এর আগে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নে বর্তমান সরকারের ৬ মাস ও তার আগের ৬ মাসের খুন-ধর্ষণসহ আইনশৃঙ্খলার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফলতা-ব্যর্থতা জানতে চান। ওই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হাসনাতের প্রশ্নকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘পল্টনের বক্তৃতা’র সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি। হাসনাত তার প্রশ্নে যে তথ্য তুলে ধরেছেন তার কোনো সোর্স উল্লেখ করেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এগুলো পল্টনে বক্তব্য চলে এটা সংসদ সংসদের তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। যদি কোনো স্পেসিফিক ঘটনার কথা বলা হলে তা নিয়ে আমরা ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে পারব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা কটাক্ষ করে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় দেশের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেমন একাধিক প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না, কারণ বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ‘ভালো’ অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে।
জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা।
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে জ্বালানি খাতের বেহাল দশা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্ট লোকেরা বলে-অবশ্য ভালো লোকেরা বলে না-তারা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়।
দেশে মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলিয়া নেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে কিনা? সংরক্ষিত নারী আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব সহিংসতায় সরকার 'জিরো টলারেন্স নীতি' অনুসরণ করছে। অপরাধের বিচার করার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কেবল রাষ্ট্রের। আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত কাউকে সাজা দেওয়া বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে এবং আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। রাত ৮টা ৫ মিনিটে আইন-প্রণয়ন কার্যাবলীতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং ট্রান্সফার অব প্রপার্টি বিল নামে তিনটি বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের রায় না মানা, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার সময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাদেরকে সংসদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আলাপ-আলোচনা না থাকলে সমস্যার সমাধান হবে কিভাবে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে উত্থাপিত বিল তিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। বিল উত্থাপনের আগে সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা এমন একটি সংসদ উপহার দেই। এখানেই আলোচনা করব, এখানেই বাহাস করব এবং এখানেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করব।