নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ

তারকাদের নিরাপদে ফেরার আকুতি

নেপালে হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তছনছ হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। আকস্মিক এই দুর্যোগে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে গেছে বহু রাস্তাঘাট ও সেতু। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে বিনোদন অঙ্গনও। বাংলাদেশের ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে নেপালে আটকা পড়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ^াস এবং ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং রজতাভ দত্ত। আরও আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান ও তার দল

 

নিরাপদে ফিরতে চান অপু বিশ্বাস

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপাল যান চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানে পোখারা অঞ্চলে অবস্থানকালে আকস্মিক বন্যার মুখে পড়েন তিনি। বর্তমানে নিরাপদে থাকলেও পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার মহাসড়ক ভূমিধসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।

পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ^াস জানান, তিনি নিরাপদ স্থানে আছেন, তবে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। বর্তমানে ঢাকা ফেরার সুবিধার্থে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আজ বিকেলের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। নিজের পরিবার ও ভক্তদের দুশ্চিন্তা না করার অনুরোধ জানিয়ে অপু বলেন, ‘সবার কাছে দোয়া চাই, যেন দ্রুত ও নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরে যেতে পারি।’ উল্লেখ্য, সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ।

জঙ্গলে খরাজ-রজতাভের ৫ ঘণ্টা

একই সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে নেপালের চীন সীমান্তঘেঁষা রসুয়া জেলায় আটকে পড়েছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায় ও অভিনেতা রজতাভ দত্ত। দুর্গমাঞ্চলে শুটিং চলাকালে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাট ভেসে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। দুর্যোগের মুখে টানা ৫ ঘণ্টা জঙ্গলে আটকে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। খরাজ মুখোপাধ্যায় জানান, গত ২০ আগস্ট তিনি শুটিংয়ের কাজে নেপাল পৌঁছান এবং ২৬ আগস্ট তার ফেরার কথা ছিল। তবে সরাসরি কাঠমান্ডু থেকে বিমান চলাচলের সুযোগ না থাকায় এবং ফ্লাইট সংকট দেখা দেওয়ায় তারা বিকল্প পথ বেছে নিয়েছেন। নেপাল থেকে সড়কপথে ভারতের গোরক্ষপুর হয়ে ২৮ আগস্ট কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এই অভিনেতা।

ভালো আছেন তাসরিফ খান ও তার দল

ভক্তদের আশ^স্ত করে নিজের ও দলের নিরাপত্তার খবর জানিয়েছেন ‘কুঁড়েঘর’ ব্যান্ডের সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। পর্যটক নিখোঁজের খবরে উদ্বেগের সৃষ্টি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, তারা সবাই আল্লাহর রহমতে নিরাপদে আছেন। দেশ-বিদেশের শুভাকাক্সক্ষীদের খোঁজ নেওয়া ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসরিফ বলেন, ‘আজ নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ হয়েছে।’ নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত স্থানীয়দের দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরার জন্য এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই গায়ক।

স্মৃতিকাতর জয়

নেপালের এমন ভয়াবহ দুর্যোগের খবর নাড়া দিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয়কে। ২০১৫ সালে নেপালে যখন ৭.৮ মাত্রার ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প হয়েছিল, তখনও সেখানে শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জয় প্রকৃতির সামনে মানুষের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জয় বলেন, ‘২০১৫ সালের ভূমিকম্পের দুর্যোগ আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি, তবে এবারের জলচ্ছ্বাস ও ধসের চিত্র আরও ভয়াবহ। মানুষ যখন জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন সামান্য বিষয় নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে না; শুধু বেঁচে থাকাটাই তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে ওঠে।’ এই কঠিন সময়ে নেপালের সর্বস্তরের মানুষের জন্য দোয়া ও সহানুভূতি জানান তিনি।