রাশিয়ায় এক বাংলাদেশি নিহত

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাসফিল্ড প্রকল্পে গত মঙ্গলবার গ্যাসপাইপ বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিক জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা। এ ছাড়া মেহেরপুরের গাংনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এ ঘটনায় আনুমানিক ৩৫ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। দূতাবাস ইতিমধ্যে একটি হটলাইন টেলিফোন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে কিছু মরদেহ অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রাজুর মরদেহও থাকতে পারে।

এদিকে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করছে। এ ছাড়া দূতাবাস তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রতি এবং রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।