জুরিখে বিশ্ব রেকর্ডের ঝড়: দস সান্তোস ও রাসেলের অবিস্মরণীয় রাত

ব্রাসেলসে ডায়মন্ড লিগের ফাইনাল এবং বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখের লেতজিগ্রান্ড স্টেডিয়ামে যেন বসেছিল রেকর্ড গড়া-ভাঙার এক আসর। ডায়মন্ড লিগের নিয়মিত মৌসুমের এই সর্বশেষ প্রতিযোগিতায় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে যেন বিশ্ব রেকর্ডের ঝড় বয়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবারের রোমাঞ্চকর এই রাতে বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ব্রাজিলের তারকা আলিসন দস সান্তোস এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাসাই রাসেল। একই রাতে দুটি বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার এই মহোৎসবে মুগ্ধ হয়েছেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ২৫ হাজার দর্শকসহ বিশ্বজুড়ে থাকা অ্যাথলেটিকসপ্রেমীরা।

দিনের সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ছেলেদের ৪০০ মিটার হার্ডলস থেকে। ২০২২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আলিসন দস সান্তোস মাত্র ৪৫.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে নরওয়ের কারস্টেন ওয়ারহোমের গড়া ৪৫.৯৪ সেকেন্ডের আগের বিশ্ব রেকর্ডটি ভেঙে নিজের করে নেন। ওয়ারহোম ৪৬.৬৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হলেও দস সান্তোসের গতির কাছে ম্লান হয়ে যান।

রেকর্ড গড়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দস সান্তোস জুরিখে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দর্শক ও এখানকার শক্তি ছিল নিখুঁত। এই রাতটি আমার জন্য এবং যারা দেখতে এসেছিলেন ও বাড়ি থেকে দেখছিলেন, সবার জন্য ছিল অসাধারণ। আশা করি ব্রাজিল ম্যাচটি দেখার জন্য থেমে গিয়েছিল।’ 

নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফিনিশ লাইন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার কোচকে খুঁজছিলাম। দৌড়েছি আমি, কিন্তু এই সাফল্য তিনি ছাড়া সম্ভব করতেন না। ছোটবেলায় যখন আমি কম পরিচিত ছিলাম, তখন তিনি আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।’ 

দস সান্তোসের এই বিশ্ব রেকর্ডের ঠিক ৪০ মিনিট পরেই মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ডের জন্ম দেন যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মাসাই রাসেল। নিখুঁত দৌড়ে ১২.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেন আগের বিশ্ব রেকর্ডধারী নাইজেরিয়ার টোবি আমুসানকে। ২০২২ সালে ইউজিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আমুসানের করা ১২.১২ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েন রাসেল। এই জয়ে ৮০ হাজার ডলার প্রাইজমানির চেক নিয়ে জুরিখ ছেড়েছেন তিনি। দস সান্তোসও রেকর্ড ভাঙায় সমপরিমাণ প্রাইজমানি লাভ করেন।

রেকর্ড ভেঙে আবেগে আপ্লুত মাসাই রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, ‘শুরুটা দারুণ হয়েছিল। ফিনিশিং লাইনের কাছাকাছি গিয়ে মনে হলো, 'এবার সত্যিই শেষ পর্যন্ত দৌড়ে দেখি সময় কত ওঠে।' যখন বোর্ডে ১২.০৯ দেখলাম, তখন আমার চোখে পানি চলে এসেছিল।’

দস সান্তোসের রেকর্ড দেখে বাড়তি অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন শুনলাম আলিসন দস সান্তোস বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন, তখন নিশ্চিত হলাম ট্র্যাকটি আজ দারুণ ফায়ার করছে। ওনার কাছ থেকে আমি নিশ্চিতভাবে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’ 

এদিকে শুধু হার্ডলস নয়, পোল ভল্টেও দেখা গেছে চরম রোমাঞ্চ। দুইবারের অলিম্পিক ও তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আরমান্দ ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্তিসকে কঠিন লড়াইয়ে ফেলেছিলেন গ্রিসের ইমানৌইল কারালিস। ব্যক্তিগত সেরা ৬.২০ মিটার উচ্চতা পাড়ি দিয়েও অবশ্য ডুপ্লান্তিসের ৬.২৫ মিটার টপকানো ঠেকাতে পারেননি কারালিস। পোল ভল্টের ইতিহাসে এই প্রথম দুই অ্যাথলেট একসঙ্গে ৬.২০ মিটার বা এর বেশি উচ্চতা পার করার দুর্লভ দৃশ্য দেখল বিশ্ব।