ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমিরুন্নেছা (৬০) নামের এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, হৃদ্রোগে আক্রান্ত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে মহাসড়কের দাউদকান্দি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রোগীর স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার রাতে আমিরুন্নেছা গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত আটটার দিকে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর সড়ক সংস্কার কাজের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই থমকে থাকে গাড়ি। একপর্যায়ে রাত তিনটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই আমিরুন্নেছা মারা যান।
যোগাযোগ করা হলে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, আমিরুন্নেছা নামের কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে উপজেলা হাসপাতালে এসেছিলেন—এমন তথ্য তার জানা নেই।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার সকাল আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশারিয়ারচর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এতে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা গড়ায় শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত। টানা ২৭ ঘণ্টার এই যানজটে মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী ও চালক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, আশারিয়ারচর সেতু এলাকায় সড়ক সংস্কারের কারণে একটি লেন বন্ধ থাকায় মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজট কেটে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।