মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মদ্যপানের পর মারামারিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া আলমগীর হোসেন (২৭) মারা গেছেন।
কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
যুবক আলমগীর হোসেন উপজেলার ফোর্ডনগর খানপাড়া গ্রামের সাদেমের ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর এলাকার আখতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার রাতে কয়েকজনের সঙ্গে মদ্যপান করেন আলমগীর। পরে ফোর্ডনগর সড়কে আখতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরির কাছে সুমন খা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন আলমগীর।
পরে তাঁকে প্রথমে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলমগীর আহত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সুমন খার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চিকিৎসার খরচ বহনের পাশাপাশি আলমগীরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ওই মীমাংসা হয়।
তবে কীভাবে এবং কী শর্তে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরাও প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। শুক্রবার আলমগীরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফোর্ডনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য,মরদেহ এলাকায় নেওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, মদ্যপানের পর সংঘটিত মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হলেও যদি অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার ধারণা তৈরি হবে, এমন আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মদ্যপানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে সুমনের বিরুদ্ধে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই।