৫০০ টাকায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত নকল!

পরীক্ষার হলে বই খুলে উত্তর লিখছেন পরীক্ষার্থীরা এমন দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে গিয়েছিলেন দুই সাংবাদিক। বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কলেজের দুই শিক্ষকসহ কয়েকজন। এরপর শিক্ষকদের নেতৃত্বে পরীক্ষার্থীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। মারধর করে দুটি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে তাদের আটকে রাখা হয়। পরে কৌশলে বের হয়ে দুই সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েন। এ কারণে তখন মামলাও দিতে পারেননি। গত শুক্রবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষা চলাকালে হামলা ও আটকে রাখার ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ওই কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামানকে আসামি করে গাংনী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নাগরিক টিভি ও বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বী আহমেদ। হামলার শিকার অপর সাংবাদিক হচ্ছেন দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারিক হোসেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নকলে জড়িত চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই শিক্ষককে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মামলার বাদী রাব্বীর অভিযোগ শুক্রবার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষা চলছিল। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারিক হোসেনসহ পরীক্ষার হল পরিদর্শনে গেলে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে উত্তর লিখতে দেখেন।

রাব্বী জানান, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই দেখে নকল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। বাস্তবেও সেই চিত্র দেখে ভিডিওতে ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব এবং রফিকুজ্জামানসহ ৮-১০ জন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।

অপর সাংবাদিক তারিক বলেন, আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পাই পরীক্ষার্থীরা বই দেখে খাতায় লিখছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে যান। পরে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

রাব্বী অভিযোগ করেন, থানায় মামলা দিতে গেলে শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সেখানে উপস্থিত হন। তারা সমঝোতার কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করেন।

এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। সাংবাদিকদের আটকে রাখা এবং তাদের মোবাইল ও সরঞ্জাম নেওয়ার ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নকলে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার রিপোর্ট করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামানের বক্তব্যের জন্য তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।