মেহমানদারিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি

মেহমানদারি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিসে মেহমানের সম্মান, আপ্যায়ন এবং তার হক আদায় করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নবীজি (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, মেহমানকে সাদরে গ্রহণ করা, আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করা এবং তার প্রস্থান পর্যন্ত খুশিমনে যতœ নেওয়া মুমিন চরিত্রের অংশ। মেহমানদারি এমন একটি গুণ, যা মানুষের অন্তরে মহত্ত্ব, উদারতা ও পরোপকারের মানসিকতা গড়ে তোলে। সমাজে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) মেহমানদারিতে ছিলেন অতুলনীয়। নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে শিখিয়েছেন, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখলে প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া এবং মেহমানকে সমাদর করা অপরিহার্য। এমনকি তিনি মেহমানদারিকে ইমানের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

মেহমানদারির ফজিলত অনেক। মেহমানদারির গুণ কারো মধ্যে থাকলে মহান আল্লাহ তাকে সর্বাবস্থায় সম্মানিত করেন। খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি স্বজনদের খোঁজখবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, মেহমানের সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। (সহিহ মুসলিম)

মেহমানদারির গুরুত্ব শুধু দুনিয়াবি লাভেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত অর্জনেরও সুসংবাদ রয়েছে। অনেক সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান, মেহমানকে আপ্যায়ন ও মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। আবার সাহাবায়ে কেরামের জীবনে আমরা এমন দৃষ্টান্ত পাই, যেখানে তারা নিজেদের অভাব উপেক্ষা করে যা ছিল তা অতিথির জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন, যা কোরআনের আয়াতে প্রশংসিত হয়েছে।

তবে ইসলামে মেহমানদারির সঙ্গে কিছু আদব ও সীমারেখাও নির্ধারিত আছে। সাধ্যের বাইরে চাপ নেওয়া বা মেজবানের জন্য কষ্টদায়ক দীর্ঘ সময় অবস্থান করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং সুন্নত হলো আন্তরিকভাবে তিন দিন পর্যন্ত মেহমানদারি করা, হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানানো, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রাধান্য দিয়ে খাবার পরিবেশন করা এবং বিদায়ের সময় মেহমানকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু শুরাইহ খুযাঈ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মেহমানদারি তিন দিন এবং উত্তমরূপে মেহমানদারি এক দিন ও এক রাত। কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে তার ভাইয়ের নিকট অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করবে। তখন সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করবে? তিনি বললেন, সে (মেহমান) তার নিকট (এমন বেশি দিন) থাকবে, অথচ তার (মেজবানের) এমন সম্বল নেই, যা দ্বারা সে তার মেহমেনদারি করবে। (সহিহ মুসলিম)

লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক