গ্লুকোমিটার

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ মাপা গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কাজটি সহজ করেছে গ্লুকোমিটার নামক ছোট একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যার সাহায্যে বাড়িতে বসে এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা জানা যায়।

গ্লুকোমিটারের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরনো। ১৯৬৫ সালে অ্যামস কোম্পানি ‘ডেক্সট্রস্টিক্স’ নামে প্রথম রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষার স্ট্রিপ তৈরি করেন। এটি মূলত চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য ছিল। ১৯৭০ সালে অ্যামসের রসায়নবিদ অ্যান্টন ক্লেমেন্স প্রথম ইলেকট্রনিক রক্তের গ্লুকোজ মিটার তৈরি করেন। ‘অ্যামস রিফ্লেকট্যান্স মিটার’ নামের সেই যন্ত্রটি স্ট্রিপে তৈরি হওয়া রঙের প্রতিফলন পরিমাপ করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্নয় করতো।

বর্তমানের গ্লুকোমিটার আগের তুলনায় অনেক ছোট, দ্রুত ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। দামেও সাশ্রয়ী। আঙুলে ল্যানসেট দিয়ে সামান্য রক্ত নিয়ে টেস্ট স্ট্রিপে দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পর্দায় ফলাফল দেখা যায়। অনেক আধুনিক মিটারে আগের পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ এবং মোবাইল ফোনে তথ্য পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে। তবে গ্লুকোমিটারের ফলাফল শতভাগ নির্ভুল নয়। হাত অপরিষ্কার থাকা, ভুলভাবে স্ট্রিপ সংরক্ষণ, পানিশূন্যতা, রক্তের কিছু অস্বাভাবিকতা বা নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাবে ফলাফলে তারতম্য হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলে বা উপসর্গের সঙ্গে ফল না মিললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।