সিটি-বায়ার্নের দাপট, পিএসজি-লিভারপুলের ড্র

এক দিকে আর্লিং হালান্ড ও রায়ান শেরকির দ্যুতিতে ক্রিস্টাল প্যালেসকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ফেরার বার্তা দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, অন্য দিকে স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন দারুণভাবে শুরু করেছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে ফরাসি ফুটবলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি যেন মাঠে নেমেও নিজেদের চিরচেনা ছন্দ খুঁজে ফিরছে না; লিলের মাঠে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় কোনোমতে মান বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লুইস এনরিকের দলকে। একই রকম ফল করছে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল।

হালান্ড-শেরকির জোড়া গোল ও সিটির বড় জয়

সেলহার্স্ট পার্কে আর্লিং হালান্ড ও রায়ান শেরকির জোড়া গোলের সুবাদে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সিটি। ম্যাচের ১৭ মিনিটে সেমেনওর নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করে সিটিজেনদের এগিয়ে দেন হালান্ড। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে সফরকারীরা।

বিরতির পর সিটির আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ৫৪ মিনিটে ফিল ফোডেনের পাস থেকে বল পেয়ে জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে প্যালেসের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন শেরকি। এরপর প্যালেস এক গোল শোধ করলেও, ৫৯ মিনিটে শেরকির জোরালো শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে তিনি তুলে নেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফোডেনের পাস থেকে গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড। কমিউনিটি শিল্ডের ধাক্কা কাটিয়ে এই জয়ে নিজেদের স্বরূপে ফিরল এনজো মারেস্কার দল।

গোল বন্যায় বায়ার্নের উড়ন্ত সূচনা

বুন্দেসলিগায় শিরোপা ধরে রাখার মিশনটি দারুণভাবে শুরু করেছে বায়ার্ন। আলিয়ানৎস আরেনায় স্টুটগার্টের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৫-১ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে বাভারিয়ানরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধের ঝড়ে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয় কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।

ম্যাচের ২১ মিনিটে জশুয়া কিমিখের নিখুঁত কর্নার থেকে উসমান উপমেকানোর হেডে লিড নেয় স্বাগতিকরা। বিরতির পর স্টুটগার্ট সমতা ফেরালেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। বায়ার্নের দাপুটে আক্রমণে একে একে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মাইকেল অলিসে, আলেকজান্ডার পাভলোভিচ এবং লুইস দিয়াজ। এছাড়া স্টুটগার্টের যোশা ভানোগমানের আত্মঘাতী গোল বায়ার্নের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। রেকর্ড গড়া গোলবন্যা আর দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলে বায়ার্ন বুঝিয়ে দিল, সিংহাসন ধরে রাখতে তারা কতটা মরিয়া।

নাটকীয় ড্রয়ে মান

বাঁচাল পিএসজি

মৌসুমের প্রথম ম্যাচে রেনের সঙ্গে ড্রয়ের পর এবার লিলের মাঠেও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল পিএসজি। লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে হারের শঙ্কায় ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে মার্কিনহোস ও ভিতিনহার জাদুকরী পারফরম্যান্সের

সুবাদে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি। স্টেডিয়ামের টিকিটিং সমস্যার কারণে ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে শুরু থেকেই অচেনা ও ছন্দহীন ছিল লুইস এনরিকের দল।

ম্যাচের ২১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ডিফেন্স জমাট রেখে পিএসজির তারকা আক্রমণভাগকে আটকে রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে ডিলাঁ বাকওয়ার গোলে লিল ২-০ গোলে এগিয়ে গেলে পিএসজির হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভিতিনহার দুর্দান্ত শট এবং এর ঠিক চার মিনিট পর তার দারুণ এক ক্রসেই মার্কিনিহোস হেডে গোল করে অবিশ্বাস্য এক কামব্যাক পূর্ণ করেন। তবে টানা দুই ম্যাচে ড্রয়ে শেষ করায় লিগ টেবিলে বেশ অস্বস্তিতেই রয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা।

আবার ড্র লিভারপুলের

ঘরের মাঠে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অলরেডরা। এর আগে গত সপ্তাহে নিউক্যাসল ইউনাইটেড সফর থেকেও ২-২ গোলের সমতা নিয়ে ফিরেছিল দলটি।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে এগিয়ে নেন ড্যান এনডোয়ে। ৬০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে কোডি গাকপোর দারুণ ক্রস ফাঁকায় পেয়ে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান আলেকজান্ডার ইসাক।

তবে স্বাগতিকদের সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণ পরই বক্সের ভেতরে ফরেস্টের লিয়াম ডেল্যাপের থ্রো-ইন থেকে পাওয়া বলে সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার নেকো উইলিয়ামসকে ফাউল করে বসেন অলরেড গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। পেনাল্টি থেকে গোল করে নটিংহ্যামকে ২-১ ব্যবধানে ফের এগিয়ে দেন গিবস-হোয়াইট। পিছিয়ে পড়ে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরাওলার দল। অবশেষে ম্যাচের ৮২ মিনিটে আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত সমতাসূচক গোল। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের থ্রু-বল বক্সে পেয়ে চমৎকারভাবে ঘুরে রকেটের গতিতে জোরালো শট নেন সাড়ে ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডে ক্লাবে আসা নতুন স্প্যানিশ সাইনিং ভিক্টর মুনোজ। বলটি গোলরক্ষক মাটস সেলসকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।