চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) কি হবে না? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শঙ্কার কথাই শুনিয়ে আসছিলেন তামিম ইকবাল। গতকাল সরাসরি সিলমোহর সেটে দিলেন তিনি। সর্বশেষ আসরে অংশ নেওয়া ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিদের ডেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়ে দেন, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বসবে না বিপিএলের আসর। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে অতীতের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সেগুলো সংস্কার করে এক বছর পর নতুনভাবে শুরুর পরিকল্পনা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। এমন প্রস্তাবে রাজিও হয়েছে দলগুলো। এর সঙ্গে ক্রিকেটারদের কথা ভেবে ভিন্ন একটি টুর্নামেন্ট মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
সর্বশেষ আসরে অংশ নেওয়া ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব মাসুদউজ্জামান মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে যে বিপিএলের সংস্কার দরকার। এভাবে পরিকল্পনা ছাড়া তো একটা টুর্নামেন্ট চলতে পারে না। আমরা তাই আরও গুছিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছি। আগামী বছর থেকে একটি নির্দিষ্ট সূচি তৈরি করে আমরা এটা করার পরিকল্পনা করছি।’ এরপরই নতুন টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি, ‘খেলোয়াড়দের খেলার মধ্যে রাখতে আমরা নতুন কিছু নিয়ে ভাবছি। এ বিষয়ে খুব দ্রুতই বিস্তারিত জানানো হবে। খেলোয়াড়দের বসিয়ে রাখা হবে না। তাদের খেলার মধ্যে রাখার বিষয়টি আমাদের চিন্তায় রয়েছে।’
গত কয়েক বছর ধরেই বিপিএলের নতুন মৌসুম শুরু হয় শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার ঘোরটোপে। তবে সব বিপত্তি কাটিয়ে ঠিকই আরেকটি আসর মাঠে গড়ায়। যদিও বিতর্কের আর অবসান হয় না। ক্রিকেটার হিসেবে অনেকবারই ‘নেতিবাচক বিপিএল’-এর সাক্ষী হয়েছেন তামিম। এ জন্যই এবার সাবধানে পা ফেলছেন তিনি। এই টুর্নামেন্টের আয়-ব্যয়ের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, সর্বশেষ আসরে বোর্ডের লোকসান হয়েছে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৬ টাকা। যেখানে আয় হয় ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা এবং ব্যয় হয় ৫৬ কোটি ২ লাখ ৩৯৬ টাকা। যদিও এই অর্থের বড় অংশ, ১১ কোটির বেশি, গেছে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাতে। এ ছাড়া সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সময় করা বিপিএলে ১৪ কোটি ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৩ টাকা ক্ষতি হয় বোর্ডের।
তবে ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চলে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা অনেক ক্রিকেটারের। এজন্য বিপিএলে না হলেও এই সময়ে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট করা যায় কি না, এমন প্রস্তাব নিয়ে আজ দুপুরে তামিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা আছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের।
তার আগে গতকাল বিপিএল নিয়ে বিসিবির সংস্কারের ভাবনায় সমর্থন জানান ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা। এই বৈঠক শেষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর কর্ণধার মোখছেদুল কামাল বাবু বলেন, ‘আগামীতে বিপিএল যেন ভালোভাবে হয় এবং পেশাদারত্ব ঠিক রাখতে পারে, বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে, বিপিএলও যেন সেখানে জায়গা করে নিতে পারে, এসব নিয়ে আলোচনা ছিল। এ বছর বিপিএলে অনেকগুলো সংস্কার কার্যক্রম হবে। এরপর বিপিএল হবে। সেসব কাজ করতে গিয়ে এ বছর বিপিএল করা সম্ভব না হলে পরের বছর হবে। বিপিএল বন্ধ হচ্ছে না। যদিও ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হওয়া কিছুটা হলেও ব্যত্যয়। তবে ভালোর জন্য এটা আমরা গ্রহণ করছি।’
রংপুর ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের মতেও, তাড়াহুড়ো করে আয়োজনের চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে আরও পরিকল্পিত ও টেকসই কাঠামোয় বিপিএল ফেরানোই ভালো। এ নিয়ে সাদেক বলেন, ‘বিসিবি একটা ছোট বিরতি নিয়েছে, যেন পুরো টুর্নামেন্টটা আরও সুন্দরভাবে, আরও সাসটেইনেবল মডেলে করা যায়। আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা যে তিনটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিলাম, রাজশাহীর একটা শব্দ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, সেটা হলো সংস্কার। সংস্কার প্রয়োজন।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া নেই, সাসটেইনেবল কোনো মডেল নেই। এই মডেলগুলোকে যদি আমরা দুই পক্ষ, বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, একসঙ্গে দাঁড় করাতে পারি, দীর্ঘ মেয়াদে বিপিএলের জন্য অনেক ভালো হবে।’