কুয়াকাটায় মেরিন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

উপকূলীয় বন, বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, বিশাল উপকূলীয় বনাঞ্চল ও মেরিন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশকর্মী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুয়াকাটার হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনাল-এ বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) আয়োজিত সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, বন, বন্যপ্রাণী ও মেরিন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সভায় প্রধান অতিথি ও মুখ্য আলোচক ছিলেন বন অধিদপ্তরের উপকূলীয় বন সার্কেলের বন সংরক্ষক এবং বিবিসিএফের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোল্যা রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপকূলীয় বন বিভাগ, পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহিদূর রহমান মিঞা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিবিসিএফের সভাপতি ড. নাছির উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় বন ও মেরিন জীববৈচিত্র্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রাণবৈচিত্র্য এককভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ কাজে স্থানীয় তরুণদের সচেতন ও সংগঠিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অতিথি ড. জাহিদূর রহমান মিন্ন্যা বলেন, স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাছির উদ্দীন বলেন, কুয়াকাটা ও বৃহত্তর উপকূলীয় অঞ্চল বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের বন, সৈকত, সামুদ্রিক প্রাণী, ডলফিন, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা)-এর সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জহিরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তাঁরা কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করে কার্যকর পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, কুয়াকাটা শুধু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্লাস্টিক ও বর্জ্য দূষণ, সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তন এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন।

সভায় পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরিবেশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপকূলীয় পরিবেশ ও মেরিন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিবিসিএফের সহযোগী সংগঠন উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা), ডলফিন রক্ষা কমিটি, এনিম্যাল লাভার অ্যাসোসিয়েশন, কলাপাড়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এবং কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

আয়োজকেরা জানান, মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কুয়াকাটা ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংগঠন, তরুণ স্বেচ্ছাসেবী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।