হাট-বাজারের সরকারি জমি কেনাবেচা, ভূমি অফিস উদাসীন 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি হাটবাজারের সরকারি জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এভাবে সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে হাত বদলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ জবর-দখলদাররা। পাশের একটি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে ভূমি অফিস। তারা বলছেন, হাট-বাজারের সরকারি জমি কেনাবেচার বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ওই ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হক জানান, ওই বাজারে প্রায় ২৭৮ সতাংশ সরকারি সম্পত্তি আছে। ওই সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধভাবে দোকানপাট করেছে দখলকারীরা। কিন্তু ওই বাজারের সরকারি সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। গোপনে টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্প করে জমি হস্তান্তর করে থাকলে সেটা আমাদের জানার কথা না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, চা-বাগান বাজারে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক দোকানই সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মাত্র একটি দোকান। ফলে অবৈধ দখলের কারণে সরকার একদিকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তি নিয়ে চলছে প্রকাশ্য বেচাকেনা। 

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মৃত শামসুদ্দিন সরকারের ছেলে সোহেল সরকার এবং তার সৎ মা রমিছা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বাজারের সরকারি জমিতে থাকা কয়েকটি দোকান স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। দোকান ও জমির আকারভেদে প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ থেকে ১৩ লাখ টাকা। এভাবে কয়েকটি দোকান বিক্রি করে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারি জমি হওয়ায় এসব জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব নয়। তাই ক্রেতাদের সঙ্গে স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একজন ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন দুলু জানান, বিক্রেতাদের কাছ থেকে তিনি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একটি জায়গা কিনেছেন। বিক্রেতারা তাকে জানিয়েছেন, পরবর্তীতে ওই জমি তার নামে লিজ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অপর ক্রেতা নুরুল আমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারে ভাড়া নিয়ে হোটেল ব্যবসা করছিলেন। পরে সোহেল সরকার নিজেকে জমির মালিক দাবি করে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তার কাছে দোকানসহ জমি বিক্রি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজারের পাশেই ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। অফিসের নাকের ডগায় সরকারি জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কেনাবেচা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন। এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হক বলেন, চা-বাগান বাজারে প্রায় ২৭৮ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তিতে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সরকারি জমি বিক্রির বিষয়টি তাদের জানা নেই। গোপনে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে তা তাদের জানা সম্ভব নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বিক্রেতা পক্ষের রমিছা বেগম সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, তারা ওই জমি লিজ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট অফিস বিষয়টি জানে। প্রয়োজন থাকায় তারা জমি বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম ফখরুল হোসাইন জানান, চা-বাগান বাজারের জমি পেরিফেরিভুক্ত। পেরিফেরির তালিকা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি জমি কেনাবেচার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।