গুম প্রতিরোধ দিবসের পদযাত্রায় মিয়া গোলাম পরওয়ার

যারা গুম করে তাদের হাতে  তদন্তের দায়িত্ব থাকতে পারে না 

যারা গুম করে তাদের হাতে তদন্তের দায়িত্ব থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, গুমের বিরুদ্ধে যে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে তা বাতিল করে, গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে এই সরকার আবার গুম করার ষড়যন্ত্র করছে। গুম প্রতিরোধের যে অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করা হয়েছে তা বহাল রাখতে হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয় সংসদের সামনে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি। বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর এবং সংসদ ভবনের সামনে দু’টি সমাবেশ করেন আয়োজকরা। 

ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান এমপি সংহতি জানিয়ে বলেন, আল্লাহ আমাদের দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন। আমার ভিশন একটি এই বাংলার মাটিতে আর কারো যেন মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, আর যেন ফিরে না আসতে পারে গুম। এজন্য বিপ্লব পরবর্তীতে আমাদের এমন আইন প্রণয়ন করা উচিৎ ছিল  যাতে কেউ গুম করার আগে দশবার চিন্তা করে। গুম বিরোধী আন্দোলন আমাদের চলবে। জান দেবো জুলাই দেবো না। এ সময় আয়নাঘর থেকে ফিরে আসা কর্ণেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, শহীদ জাবের ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জনগণ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশে আর গুম, খুনের আস্তানা চলতে পারে না। জুলাই সনদে মানবাধিকার রক্ষা ও গুম প্রতিরোধে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেখানে নামেমাত্র একটি কমিটি করতে চায়। এ সরকার বিগত ফ্যাসিবাদের মতো গুম, খুন করতে চায়। 

স্পিকারকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়েছিলাম। আমরা সবগুলো পয়েন্ট স্পিকারকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের সাথে দ্বিমত করেননি। তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, আমি বলেছি যে আইনটি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তার স্বামীকে গুম করা হয়েছিল। আমরা এ ধরনের আইন চাই না। আমরা বলেছি, ধৈর্যের সীমা আছে। দেশ ও দলের জন্য আগামী ৫ তারিখের লংমার্চসহ সকল কর্মসূচিকে সফল করতে দেশবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান হাসিনুর। 

জাগপার সসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি গুমের ক্ষমতায় এসে গণভোটের গণরায়ের সাথে বেঈমানি করে যে যাত্রা শুরু করেছে তারই ধারাবাহিকতায় গুম অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। গুমের বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে। 

পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান,  সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানব কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সংসদ ভবনের সামনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, গুমের শিকার শাহাদাৎ হোসেন টুটুল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট হেলাল উদ্দিন ও মাওলানা মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। 

আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।  

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সমাবেশ চলমান অবস্থায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিনের কাছে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রতিবাদ জানিয়ে ও আগের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বহাল রাখার দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এর আগে বাংলা মোটর থেকে পদযাত্রা করে কমিটির নেতারা জাতীয় সংসদের সামনে সমবেত হন। এতে ১১ দলীয় ঐক্য সংহতি প্রকাশ করে।