চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুশীলন ছাড়াই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পোস্টের দায়িত্ব সামলাতে নেমেছিলেন তিনি। অ্যাস্টন ভিলা থেকে লন্ডনে পা রেখেই আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ মুখোমুখি হলেন এক রোমাঞ্চকর বাস্তবতার। রবার্ট সানচেজের ক্রমাগত ভুলের সমাধান হিসেবে মার্তিনেজকে চেলসির গোলপোস্টে দেখতে চেয়েছিল সমর্থকেরা। কিন্তু অভিষেকেই দেখতে হলো ৭ গোলের এক মহানাটক। যেখানে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির জয় এসেছে ৪-৩ ব্যবধানে।
চেলসির নতুন ম্যানেজার জাবি আলোনসোর জন্য এটি ছিল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম হোম ম্যাচ। নতুন গ্লাভস হাতে মাঠে নেমে মার্তিনেজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, গোলকিপারের চোখে তিন-তিনবার জাল থেকে বল কুড়ানোর অস্বস্তি নিশ্চিতভাবেই কিছুটা আড়াল করেছে জয়ের আনন্দ।
প্রথমার্ধেই ৪ গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাইটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চেলসি। মাত্র ৪ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার গোলে গোড়াপত্তন ঘটে ব্লুজদের। ব্রাইটন বক্সে জটলার ভেতর থেকে বল জালে ঠেলে দেন এই মিডফিল্ডার। এর ১০ মিনিট পর (১৪ মি.) পেদ্রো নেতোর নিখুঁত পাসে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন মরগান রজার্স।
৩২ মিনিটে চেলসিকে ৩-০ গোলের আরামদায়ক লিড এনে দেন জোয়াও পেদ্রো। জোরেল হাটোর রক্ষণ চেরা বাড়ানো বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্রাইটনের জাল কাঁপান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ৩ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সফরকারীরা। ৩৫ মিনিটে মার্তিনেজের প্রথম বড় পরীক্ষা নেন ব্রাইটনের তরুণ ফুটবলার মালিক ইয়ালকুয়ে। পোস্ট ছেড়ে দ্রুত বেরিয়ে এসেও বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন চেলসি ডিফেন্ডাররা; ফিরতি বলে ইয়ালকুয়ের কোনাকুনি রকেট ভলি মার্তিনেজের কোনো সুযোগ না দিয়েই পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এটি ছিল চেলসির টানা ১৮তম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ যেখানে তারা কোনো 'ক্লিনশিট' রাখতে পারল না।
কোল পালমারের জাদু
বিরতির পর ব্রাইটন চেলসির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ৬৩ মিনিটে প্যাসকাল গ্রসের বিপজ্জনক এক কর্নার সামলাতে গিয়ে ভুল করে বসেন চেলসির প্রথম অর্ধে গোল করা জোয়াও পেদ্রো। তাঁর গায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালেই (৩-২)।
এরপরের ১০ মিনিট সামলাতে হয় মার্তিনেজের মূল পরীক্ষা। ডিয়েগো গোমেজের দূরপাল্লার বুলেট শট চমৎকার ডাইভ দিয়ে রুখে দেন এই আর্জেন্টাইন বাজপাখি। এরপর বসকাকলির নিচু শট ঠেকিয়ে চিৎকার করে সতীর্থদের দিকে হাত উঁচিয়ে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি।
মার্তিনেজের তৈরি করা সেই মানসিক স্বস্তি কাজে লাগান কোল পালমার। ৭৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্রাইটন ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে কোণ ঘেঁষে এক দুর্দান্ত শটে স্কোরলাইন ৪-২ করেন এই ইংলিশ তরুণ। তবে যোগ করা সময়ে (৯০+২ মি.) ফ্রি-কিক থেকে আসা বল চেলসির রক্ষণ ক্লিয়ার করতে না পারলে দূরহ কোণ থেকে নিখুঁত হেডে ব্রাইটনের হয়ে প্যাসকাল গ্রস ব্যবধান ৪-৩ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে শেষ আট মৌসুমে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুটি হোম ম্যাচেই জয় পেল চেলসি। পাশাপাশি লিগের প্রথম দুই ম্যাচে রেকর্ড ৭টি গোল দিল তারা। আলোনসোর ছোঁয়ায় ব্লুজদের আক্রমণভাগে গতির দৃশ্যপট ফুটে উঠলেও, রক্ষণের এই নড়বড়ে ভাব দূর করাই এখন মার্তিনেজ ও আলোনসো জুটির মূল চ্যালেঞ্জ।