মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই হাল সিটির কাছে ধাক্কা খেয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হেড কোচ মাইকেল ক্যারিক। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনেও তাঁর এক্সপ্রেশনে বিরক্তি স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেছিলেন, "ইউনাইটেড হারলেই সবাই ভেবে নেয় সব শেষ।" তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের শান্ত মেজাজ ও পরিকল্পনার যথার্থতা প্রমাণ করলেন তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইপ্সউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্বস্তির জয় নিশ্চিত করেছে রেড ডেভিলরা।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য কিছুটা ধাক্কাই খেয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আব্দুল ফাতাউ-এর বাড়িয়ে দেওয়া বলে লিফ ডেভিস গোল করে ইপ্সউইচকে এগিয়ে নিলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে উদ্বেগের মেঘ জমে। কিন্তু অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, হ্যারি ম্যাগুইয়ারের ডিফ্লেক্টেড গোল এবং ব্রায়ান এমবেউমোর শেষ মুহূর্তের লক্ষ্যভেদে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির হাসি হেসে ক্যারিক বলেন, "ফুটবলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কত কিছু বদলে যায়! হাল সিটির কাছে হারের পর দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আজ এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়ার বিষয়।"
ডিফেন্স ও লেফট-ব্যাক নিয়ে দুশ্চিন্তা
পাঁচ গোল করে বড় জয় পেলেও স্কোয়াডের সব সমস্যার সমাধান এখনই হচ্ছে না। বিশেষ করে লেফট-ব্যাক পজিশন নিয়ে ইউনাইটেডের অস্বস্তি কাটছে না। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে আর অল্প সময় বাকি থাকায় ক্লাবকে এখন নতুন লেফট-ব্যাকের সন্ধানে নামতে হতে পারে।
লুক শ গত সপ্তাহে হাল সিটির বিপক্ষে ভুলের পর এই ম্যাচেও বেশ সংগ্রাম করেছেন। ইপ্সউইচের প্রথম গোলের সময় তাঁর দুর্বল ডিফেন্ডিংয়ের সুযোগই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ। ম্যাচের পর তিনি নিজেই নিজের খেলায় "ক্ষুব্ধ ও হতাশ" বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ইউনাইটেড দীর্ঘদিন ধরে নিউক্যাসলের লুইস হলকে নজরদারিতে রাখলেও ট্রান্সফার জটিলতায় তাঁকে পাওয়া আপাতত কঠিন।
ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত ও বিশ্বসেরা আক্রমণ
বিশ্বকাপের পর ম্যাচ ফিটনেসের অভাবে প্রথম ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকলেও, এই ম্যাচে ফিরেছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও কোবি মাইনো। মার্তিনেজের সেন্টার-ব্যাক থেকে পাসিং এবং ডিফেন্সে মাইনোর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং ইউনাইটেডের মাঝমাঠকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অ্যাটাকিং থার্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেস ছিলেন এক কথায় দুর্দান্ত। হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি এমবেউমোর গোলে অ্যাসিস্টও করেন তিনি। পুরো ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মোট ৩৩টি শট নেয়, যা গত ১০ বছরের মধ্যে তাঁদের সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২১ সালের আগস্টের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে ৫টি গোল করল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি।