সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে সম্পদের মামলায় দুদকে তলব

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির পাঠানো নোটিসে তাকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠিয়ে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা পাচারের মাধ্যমে আত্মসাতের মামলায় সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার থেকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন দুদকের কমিশন না থাকায় তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দুদকের নতুন কমিশন যোগদানের পর থেকে কমিশন পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। এর অংশ হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানকে তলব ও এক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাচ্ছে।

 দুদক সূত্র জানায়, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।

দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়েছে, সাবেক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। দুদকের পাঠানো নোটিসে তাকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

এ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মেল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দুদকের নোটিসে নির্ধারিত সময়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিতে সাবেক এই সেনাপ্রধানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে নোটিসে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। সোমবার থেকে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে।

অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক এই সেনা কর্মাকর্তাকে চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।