বাংলাদেশে চীনা কোম্পানির ব্যবসা 

২১ মাসে ৩১৭ কোটি টাকা ফাঁকি, মামলা দায়ের

একটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করে সুকৌশলে শত শত কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে চলেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র ২১ মাসে ওই চীনা কোম্পানি সরকারকে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর বা মূসক) ফাঁকি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত শতভাগ চীনা মালিকানাধীন ওই কোম্পানি ব্যাটারি প্রস্তুত করে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আসছে। দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ব্যাটারি বিক্রির রমরমা ব্যবসা করে আসছে ওই কোম্পানি।

চলতি আগস্ট মাসের ৩ তারিখে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত পরিদপ্তর (সিআইআইডি) জিওজো ইন্ডাস্ট্রি লি. নামে ওই কোম্পানির তারাবো বিশ্বরোডে অবস্থিত কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিক্রয়ের মূল (প্রকৃত) বাণিজ্যিক নথিপত্র জব্দ করে।

চীনা ভাষায় লিখিত মূল লেজার (বিক্রয়ের নথিপত্র) অনুবাদ এবং সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট থেকে শুরু করে গত এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির মূল বিক্রয়মূল্য পাওয়া গেছে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু ওই ২১ মাসের ভ্যাট হিসাব করতে কোম্পানির পক্ষ থেকে মোট বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮২ টাকা। ভ্যাট ফাঁকি দিতেই বিক্রয়মূল্যের আরও ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রকৃত তথ্য লুকানো হয়। গোপন করা বিক্রয়মূল্যের হিসেবে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকারও বেশি।

সিআইআইডি জানায়, অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিলাদি ও নথিপত্র জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত দলিলাদি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ শেষে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাটারি উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিপরীতে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা মূসক ফাঁকি দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই চীনা কোম্পানিটি ১৬ মার্চ ২০২০ সাল থেকে মূসক আইনে নিবন্ধিত। কোম্পানির বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নং-০০২৮১৪৭৭৮-১৪০৫। এ ব্যাপারে ৩০ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনিয়ম/কর ফাঁকির মামলা (১৪-২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।