গানে গানে ফিরলেন ‘মহানায়ক’

‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নন, তিনি বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসার এক চিরন্তন নাম। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এই ধ্রুবতারার জন্মশতবার্ষিকী। কিন্তু কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের সিনে ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে নানা আয়োজন। জন্মশতবর্ষের আবেগকে আরও একবার উসকে দিল সমাজসেবী সংঘের বিশেষ উদ্যোগ। গত শনিবার সন্ধ্যায় উত্তম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো মহানায়ককে নিয়ে এক বিশেষ সংগীতসন্ধ্যা। গানের সুরে, স্মৃতিচারণে এবং শ্রদ্ধার্ঘে ফিরে দেখা হলো উত্তম কুমারের সোনালি সময়কে। অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রদীপ প্রজ¦ালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে যুক্ত পরিবার এবং বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয় অর্থমন্ত্রী ও বিধায়ক ড. স্বপন দাশগুপ্তকে। পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের তরফে উপস্থিত ছিলেন তার পুত্রবধূ মহুয়া চ্যাটার্জি। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জির পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন তার কন্যা পৌলমী চ্যাটার্জি। এ ছাড়া কিংবদন্তি গায়ক ও সংগীত পরিচালক শ্যামল মিত্রের পুত্র সৈকত মিত্র, চলচ্চিত্র পরিচালক ধ্রুব ব্যানার্জি এবং চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তকে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার থিম ব্যানার প্রকাশ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের হাত ধরে সেই থিম ব্যানার উন্মোচন করা হয়।

তবে সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল সংগীতানুষ্ঠান। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে শুরু হয় মহানায়ককে উৎসর্গ করা বিশেষ মিউজিক্যাল ট্রিবিউট। উত্তম কুমারের ছবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গান ও সুরের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের সোনালি অধ্যায়গুলোকে ফিরে দেখেন উপস্থিত দর্শকরা। একের পর এক পরিচিত সুর যেন ফিরিয়ে আনে সেই সময়, যখন বাংলা ছবির পর্দায় উত্তম কুমারের উপস্থিতিই ছিল দর্শকের কাছে এক আলাদা আবেগ।

এই বিশেষ সংগীতসন্ধ্যায় গান পরিবেশন করেন পল্লব ঘোষ, সৈকত মিত্র, ত্রিজয় দেব, সমীক পাল এবং সিসপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সুচিতা রায় চৌধুরী। সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলান শঙ্কু ঘটক। উত্তম কুমারকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে গান যে কতটা সুন্দর মাধ্যম, এদিনের অনুষ্ঠান যেন তারই প্রমাণ হয়ে গেল। তার অভিনীত ছবির গান শুধু সিনেমার অংশ নয়, বহু প্রজন্মের বাঙালির ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। তাই পরিচিত সুরের সঙ্গে সঙ্গে এদিন ফিরে এসেছে প্রেম, নস্টালজিয়া এবং এক স্বর্ণযুগের স্মৃতি।

জন্মশতবর্ষের আবহে মহানায়ককে ঘিরে যখন গোটা বাংলা নানা কর্মসূচিতে শামিল, তখন সামাজসেবী সংঘের এই আয়োজনেও ধরা পড়ল সেই চিরন্তন আবেগ। পর্দা থেকে বহু বছর আগে বিদায় নিয়েছেন উত্তম কুমার। কিন্তু তার গান, অভিনয় এবং অসংখ্য স্মৃতি এখনো বাঙালির মনে সমান জীবন্ত। শনিবারের সংগীতসন্ধ্যা সেই চিরসবুজ মহানায়ককেই গানে গানে আরও একবার ফিরিয়ে আনল।