পুনঃঅর্থায়ন কৃষিঋণের সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণের সুদহার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহকপর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এ সীমা প্রযোজ্য হবে।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এতে তহবিলের সুদহার, ঋণের মেয়াদ, পরিশোধ পদ্ধতি এবং প্রচার-প্রচারণাসহ কয়েকটি শর্ত সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোকে কেন্দ্র করে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। গত ৬ জুলাই এ-সংক্রান্ত মূল নীতিমালা জারি করা হয়।

সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহকপর্যায়ে আদায়যোগ্য সুদ বা মুনাফা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। এ হার সব গ্রাহকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে শরিয়াহ অনুমোদিত বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে মুনাফা নির্ধারণ করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা ৭ শতাংশের বেশি নেওয়া যাবে না। ঋণ বা বিনিয়োগের কিস্তির ক্ষেত্রে ক্রম হ্রাসমান স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা আরোপ করতে হবে।

সংশোধিত নীতিমালায় ঋণ বা বিনিয়োগের মেয়াদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন খাতে সংশ্লিষ্ট খাত বা প্রকল্প বিবেচনায় তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৮ মাস মেয়াদে ঋণ দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে তিন থেকে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস বা তিন বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়া যাবে।

পুনঃঅর্থায়ন নেওয়ার তারিখ থেকে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে মূল অর্থ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ৩ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে।

তহবিলের অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতেও কঠোর শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো ব্যাংক তহবিলের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করলে অথবা গ্রাহকের কাছ থেকে ৭ শতাংশের বেশি সুদ বা মুনাফা আদায় করলে সংশ্লিষ্ট অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে এককালীন সুদ বা মুনাফা আদায় করা হবে।

অর্থাৎ, রেয়াতি তহবিলের অর্থের অপব্যবহার কিংবা গ্রাহকের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার বেশি সুদ আদায় করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আর্থিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

তহবিলের সুবিধা প্রকৃত উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের তথ্য ব্যাংকের শাখার ভেতরে ও বাইরে সহজে দৃশ্যমান স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রেয়াতি ঋণসুবিধার বিষয়টি জানাতে হবে।

এই তহবিলের আওতায় কৃষি উৎপাদন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন, বাজারজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির মতো কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।

সুদের হার কমিয়ে ৭ শতাংশ করায় উত্তরবঙ্গের কৃষক, উদ্যোক্তা ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম খরচে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগও বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।