থানায় নেওয়ার পথেই পুলিশের সামনে নারীকে মারধর

রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এক নারী ব্যবসায়ীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

লাঞ্ছনার শিকার ওই নারীর নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে জাকিয়া সুলতানাকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি দিতে থাকেন।

জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনায় তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর গত ২৩ আগস্ট বৃষ্টি নামের ওই কর্মচারী লোকজন নিয়ে কাপড় বাজারের তৃতীয় তলায় তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

জাকিয়ার ভাষ্য, শনিবার কাপড় বাজারে শতাধিক মানুষ তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। থানায় যাওয়ার পথেই পুলিশের সামনে কয়েকজন যুবক তাকে লাথি মারেন।

জাকিয়া সুলতানা জানান, জেলার ২৬টি সাবসেন্টারের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে কাপড় বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

তবে জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ। তার পাল্টা দাবি, ওই নারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করায় ওই নারীকে পুলিশের সামনে হেনস্তা করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ‘আস্থা’ নামের কোনো প্রতিষ্ঠানও তাদের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।