বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতের বিপক্ষে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক সাদা বলের সিরিজটি একেবারেই বাতিল হয়ে যায়নি। বিসিবি এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) নতুন উইন্ডো খুঁজে বের করতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। তামিমের মতে, বিশ্বকাপ বয়কটের সংকটটি বিসিবির আরও কার্যকর ও কূটনৈতিকভাবে সামলানো উচিত ছিল এবং দলটির অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা উচিত ছিল।
ভারত সিরিজ নিয়ে আলোচনার পথ খোলা
চলতি বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে ভারতের বাংলাদেশে এসে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা থাকলেও দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সিরিজটি নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে সিরিজটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
'নট আউট নোমান' ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল বলেন, "সিরিজটি হচ্ছে না—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, উভয় বোর্ডই সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। নতুন একটি সময়সূচি ও উইন্ডো খুঁজে বের করতে বিসিসিআই এবং বিসিবি নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি বিসিসিআইয়ের সদিচ্ছা না থাকত, তবে আমি আশাবাদী হওয়ার মতো এই কথাগুলো বলতাম না। তাদের মনোভাব খুবই ইতিবাচক।"
তিনি আরও জানান, ক্রিকেট বোর্ডের এখতিয়ারের বাইরেও কিছু কূটনৈতিক বিষয় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির ব্যস্ততার মাঝেই দুটি বোর্ড একটি সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে আফসোস
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর করা নিয়ে আপত্তি তোলে বিসিবি। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আবেদন জানালে আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই প্রসঙ্গ টেনে বিসিবি সভাপতি বলেন, মোস্তাফিজের ঘটনাটি নিঃসন্দেহে পুরো দেশের জন্য হতাশাজনক ছিল এবং তা কোনোভাবেই হওয়া উচিত হয়নি। তবে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে না খেলার সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিসিবির দরকষাকষি আরও পরিপক্ব হতে পারত।
তামিম উল্লেখ করেন, "আমরা একদম প্রথম দিনেই এমন এক জায়গায় চলে গিয়েছিলাম যেখান থেকে আর পেছনে ফেরার পথ ছিল না। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জনের পর যেভাবে সারা দেশ উদযাপন করেছিল, সেটি মনে রাখা উচিত ছিল। ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনৈতিক বিষয় থেকে আলাদা রাখা উচিত। যদি প্রথম দিনেই আমরা কঠোর অবস্থান না নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখতাম, তবে নিশ্চিতভাবেই আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পারতাম।"
বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে এসে আইসিসির অভ্যন্তরীণ আলোচনার অনেক গোপন তথ্য জানতে পেরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সময়ের মধ্যস্থতায় অনেক ঘটনা ঘটেছিল যা প্রকাশ করলে অনেকেই অবাক হবেন। তবে বোর্ডের সম্মান রক্ষার্থে তিনি সেগুলো প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন।