মুক্তির অপেক্ষায় থাকা টলিউড সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর মাধ্যমে ফের একসঙ্গে দেখা যাবে দেব ও শুভশ্রী জুটিকে। তাদের নতুন রসায়ন বড়পর্দায় কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শক। পুরোনো জুটির নতুন অধ্যায় ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সম্প্রতি এই দুই তারকা একে অপরের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন ফেসবুকে। মাঝে কেটে গেছে এক যুগ। বদলেছে তাদের ব্যক্তিগত জীবন, কাজের ধরন এবং পর্দার বাইরের সমীকরণও। কিন্তু সত্যিই কি এই ১২ বছরে দু’জনের মধ্যে বদল এসেছে? দেবের চোখে শুভশ্রীর পরিবর্তন অত্যন্ত ইতিবাচক। তার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব এসেছে, পরিণতিবোধ বেড়েছে। আর দেব মনে করেন, এই পরিণতিবোধ যদি তাদের মধ্যে না আসত, তাহলে হয়তো আজ তারা আবার একসঙ্গে কাজ করার জায়গায় পৌঁছাতে পারতেন না। শুভশ্রীর মধ্যে বড় একটা ম্যচিওরিটি এসেছে। এই ম্যচিওরিটি যদি আমাদের দু’জনের মধ্যেই আগে থাকত, তাহলে হয়তো আমরা আলাদা হতাম না।
একটি দৃশ্যে সামান্য আঙুল ছোঁয়ার মুহূর্ত নিয়েও দেবের মাথায় ঘুরছিল নানা প্রশ্ন। কীভাবে শুভশ্রীকে বলবেন? শুভশ্রী কী ভাববেন? তিনি কি ভুল বুঝবেন? শেষ পর্যন্ত নিজেই বিষয়টা শুভশ্রীকে বলেন। শুভশ্রীও স্বাভাবিকভাবে সেটি গ্রহণ করেন। আর সেখান থেকেই তৈরি হয় একে অপরের প্রতি বিশ্বাস। ১২ বছর আগের মুহূর্তগুলো অবশ্য শুভশ্রীর স্মৃতিতে এখনও যথেষ্ট স্পষ্ট। দেব মজা করে বললেন, ‘ওর সব মনে আছে। হাতির থেকেও বেশি মনে থাকে!’ কোন জায়গায় কী হয়েছিল, কী ঘটেছিল, অনেক কিছুই শুভশ্রীর মনে এখনও পরিষ্কার। শুভশ্রী বলেন, ‘তিনি যা মনে রাখতে চান, সেটাই মনে থাকে।’ দেব সঙ্গে সঙ্গে মজা করে বললেন, ‘তাহলে আমি এখনও আছি!’ দেবের কথায়, শুভশ্রীর এই পরিণতিই তাকে ‘দেশু-৭’র জন্য দেবের সঙ্গে আবার কাজ করতে রাজি হতে সাহায্য করেছে। ‘ও আজ ভাল আছে, তাই আমিও ভাল আছি’, এই কথার মধ্যে পুরনো সম্পর্কের জটিলতার থেকেও যেন একটা পরিণত বোঝাপড়ার ছবি ফুটে ওঠে। একইসঙ্গে দেবের বার্তা তার ও শুভশ্রীর অনুরাগীদের কাছেও। এমন কোনো মন্তব্য বা আচরণ না করাই ভালো, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে অস্বস্তিকর বা জটিল করে তুলতে পারে।
আর শুভশ্রীর চোখে দেব? এত বছর পরেও দেবের যে গুণটি একটুও বদলায়নি, তা হল তার মাটির কাছাকাছি থাকা। মেগাস্টারের তকমা ছাড়াও যে মানুষটি তাকে চা দিতে আসছেন, তার সঙ্গেও একইভাবে বসে চা খেতে পারেন দেব। এমনকী পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতাটাও এখনও তার মধ্যে একই রকম আছে। সহ-অভিনেতা হিসেবে দেবের এই গুণটাই শুভশ্রীর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। ১২ বছর পর ফিরে আসা এই সম্পর্কের নতুন সমীকরণ যে শুধু পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তার ইঙ্গিত মেলে ছোট্ট একটি ঘটনায়। দেবের ফোনে একসময় শুভশ্রীর নাম সেভ করা ছিল ‘শুভশ্রীদি অ্যাক্টর’ নামে। সেই আনুষ্ঠানিক দূরত্ব এখন আর নেই। নামটা বদলে দিয়েছেন দেব, লিখেছেন ‘শুভ’। তা দেখে শুভশ্রীর মজার প্রশ্ন, ‘শুভ’ তো অনেক ছেলেরই নাম! গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই? সঙ্গে সঙ্গে দেবের পাল্টা দুষ্টুমি, ‘তোমার জীবনে অন্য কোনো দেব নেই তো?’ শুভশ্রীর সোজাসাপটা উত্তর, ‘না।’
বারো বছর আগের সম্পর্ক, বারো বছরের দূরত্ব, এতদিনের জমে থাকা স্মৃতি আর নতুন করে তৈরি হওয়া বিশ্বাস, সবকিছুর মাঝখানে হয়তো দেশু ৭-এর আসল গল্পটা এখানেই। কিছু সম্পর্ক কখনও সত্যিই শেষ হয়ে যায় না। একে অপরের প্রতি ভালোবাসাটুকুও ফুরিয়ে যায় না। শুধু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই ভালবাসা প্রকাশের ভাষা, বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। আর হয়তো সেই বদলে যাওয়া ভাষাতেই নতুন করে একে অপরকে খুঁজে পাওয়ার গল্প বলে ‘দেশু ৭’।