জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে রূপসী আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মো.আল জিহাদ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের দিকে জামালপুর জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে জেলার ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের হাড়গিলা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে গ্রেপ্তার আল জিহাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ওই রাতে আল জিহাদ কিশোরীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তাকে শাকিলের সেচ পাম্পের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড পাম্প হাউজে নিয়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কিশোরীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পরদিন সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাম্প হাউজের ভেতর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার গলায় লাল রঙের ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট মাদারগঞ্জ থানায় মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, মাদারগঞ্জ সার্কেল মো.মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) হাসিব আল মাহফুজ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তেঘরিয়া গ্রামের আল মামুন আহমেদের ছেলে মো. আল জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং কিশোরী রূপসী আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার তদন্ত এখনো চলছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এর পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেছেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আসামির অবস্থা নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দী দিয়েছেন। এ জেলায় সংগঠিত সব অপরাধের ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে।