শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে বিশৃঙ্খলা দূর করতে আসছে নতুন সংবিধান

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক সংকট ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে আনা হচ্ছে এক নতুন সংবিধান। এর লক্ষ্য হলো ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম মেনে সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের পথ তৈরি করা।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ট্রান্সফরমেশন কমিটির চেয়ারম্যান এরান বিক্রমারাত্নে জানান, বিভিন্ন অংশীজন ও বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে এই খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ কাঠামোর অধীনে হতে হবে।

বর্তমানে খসড়া সংবিধানটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শ্রীলঙ্কার আইনি ও সরকারি কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে। এটি প্রথমে দেশটির ক্যাবিনেটে পেশ করা হবে। ক্যাবিনেটের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এটি গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করে পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পার্লামেন্টের চূড়ান্ত পাসের মাধ্যমে নতুন আইন হিসেবে কার্যকর হবে এই সংবিধান।

এই সংস্কার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ও ট্রান্সফরমেশন কমিটির সদস্য কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি জানান, তারা পুরো প্রক্রিয়ায় আইসিসির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছেন এবং আইসিসিও এতে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

সাঙ্গাকারা বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য শুধু একটি নির্বাচন দেওয়া নয়, বরং এমন একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা তৈরি করা যা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করবে। আমরা চাই ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষ যেন তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।"

যে কারণে এই সংস্কার
 
গত কয়েক বছর ধরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছিল। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের বাজে পারফরম্যান্সের পর। তখন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী পুরো ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করেন।

ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করে দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও কড়া শর্ত জুড়ে দেয়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে অবশ্যই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হতে হবে।

আইসিসির সেই শর্ত পূরণ, প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধ এবং ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনার জন্যই মূলত এই 'ট্রান্সফরমেশন কমিটি' গঠন করা হয়েছিল। তাদের তৈরি করা এই নতুন সংবিধান পাস হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।