তদন্ত কমিটি গঠন

অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে ৩ কোটি টাকার গহনা উধাও!

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার একটি লকার থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ফারজানা রহমান লিমা বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিমা বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ঘোষণাপত্র তৈরি করে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে লকার থেকে তার মায়ের গহনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে ফারজানা জানান, শাখাটির ৪০৯ নম্বর লকারে তার প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ এবং মায়ের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিল। ২০১৯ সালের ১৫ জুন স্বামীসহ বিদেশে যাওয়ার পর তিনি লকারটি সরাসরি দেখভাল করতে পারেননি। তার মা মারা যান ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর তার স্বাক্ষর জাল করে ঘোষণাপত্র তৈরি করে বোন ফারহানা রহমান লকারটি পরিচালনা করেন বলে জানান তিনি। 

গত ১২ আগস্ট দেশে ফেরার পর বিষয়টি জানতে পেরে ২৪ আগস্ট ব্যাংকে গিয়ে গহনা নেই বলে জানতে পারেন ফারজানা। একই সঙ্গে তার স্বাক্ষর করা চেকের দুটি পাতা ব্যবহার করে বোনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ করেছেন তিনি। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারহানা রহমান সুমি বলেন, বোনের স্বাক্ষর করা নথির একটি প্রিন্ট কপি তার কাছে আছে। তবে মূল নথি কীভাবে এসেছে, তা তিনি জানেন না। বোনের গহনার একটি বক্স তার কাছে রয়েছে এবং গহনাগুলো অন্য একটি ব্যাংকের লকারে রাখা আছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

অভিযোগের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই ডিজিএমের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কীভাবে গহনাগুলো লকার থেকে বের হলো এবং এতে ব্যাংকের কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক কোনো বিরোধের বিষয় আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ব্যাংকের এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকের কাছে থাকা চাবি দিয়েও লকার খোলা সম্ভব। ফলে তদন্ত ছাড়া অভিযোগের সত্যতা বা ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ব্যাংকের কারও সংশ্লিষ্টতা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আরিফ হোসেন খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল সরেজমিন তদন্ত করে। অভিযোগের সত্যতা বা বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।