প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি 

ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং, সরকারি সেবা এবং টেলিকমিউনিকেশন খাত দ্রুত ডিজিটাল হলেও, পরিকল্পনা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা এক ধরনের ডিজিটাল বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন অধিকারকর্মীরা।

তারা বলেন, ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা শুধু সামাজিক ন্যায়বিচার বা মানবাধিকারের বিষয় নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগও। ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও বেশি মানুষকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘ডিজিটাল অধিকার, গণতন্ত্র, এবং ই-গভর্নেন্স-প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক একটি নীতি সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা এসব কথা বলেন।

ডিডিআই সাউথ এশিয়া এর সহায়তায় সংযোগ ফাউন্ডেশন রবিবার বিকেলে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তারা বলেন, মোট জনসংখ্যার ১৫% প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অংশ। তাদের প্রশিক্ষিত করা হলে এবং ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার থাকলে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন, উল্লেখ করে তাদের জন্য যথাযথ ডিজিটাল ডিভাইস ও প্রশিক্ষণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে, শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নতি ঘটায়, উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, বৈষম্য কমায় এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।    
 
তারা ডিজিটাল সেবা নকশা ও পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থবহ সম্পৃক্ততা, সবার জন্য ডিজিটাল সেবায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন এবং এ উদ্দেশ্য অর্জনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/এজেন্সিগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। 
  
অনুষ্ঠানটিতে জানানো হয় যে, জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম অবস্থানে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান কিন্তু ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটির ক্ষেত্রে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১০৮তম।

প্রতিবন্ধী ১৬৭ জন যাচাইকৃত উত্তরদাতার ওপর পরিচালিত একটি দ্বিভাষিক জরিপে দেখা গেছে, ৯৬% ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, ৮৭% প্রতিদিন এটি ব্যবহার করেন এবং ৭৪% সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তবুও ৬১% মনে করেন যে সহায়ক প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা কঠিন, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উত্তরদাতাদের মধ্যে বেড়ে ৬৯%-এ দাড়ায়, আর ৪৪% যাচাইকরণ ধাপের কারণে বাধাগ্রস্ত হন। আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে, ৮৬% মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করেন, কিন্তু ৪৮% সমস্যার কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে এককালীন পাসওয়ার্ড (৪১%), স্ক্রিন-রিডারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা (৪০%) এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ (২১%)।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আর সংযোগ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জাভেদ জামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এ২আই এর-এর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট-অ্যাক্সেসিবিলিটি ভাস্কর ভট্টাচার্য, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলামসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।