বাংলা কিউআরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জনতা ব্যাংক

বাংলা কিউআর সেবায় মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকের ১৫টি বিভাগীয় ও করপোরেট ইউনিটের জন্য মোট ১ লাখ ৫ হাজার ১০০টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৭টি। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ১০১ দশমিক ৫১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনেও ১ কোটি টাকার মাইলফলক অর্জন করেছে ব্যাংকটি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্চেন্ট অনবোর্ডে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে খুলনা। এ বিভাগের জন্য ৯ হাজার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট’র লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭৭৯টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ২৬৪ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় আড়াই গুণের বেশি মার্চেন্টযুক্ত করেছে খুলনা।

মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী। এ বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০টি। এর বিপরীতে অ্যাকাউন্ট হয়েছে ১১ হাজার ২০৫টি মার্চেন্ট। অর্জনের হার ১৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া। সেখানে ৭ হাজার ৩০০টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে যুক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮২টি। এতে অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এ ছাড়া রংপুরে ৭ হাজার ৭০০টির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮ হাজার ২০০টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হয়েছে, অর্জন ১০৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বরিশালে ৫ হাজারের বিপরীতে ৪ হাজার ৯৬০টি মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছে, অর্জন ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। কুমিল্লায় ৭ হাজার ৯০০টির বিপরীতে ৭ হাজার ৮২১টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হয়েছে, অর্জন ৯৯ শতাংশ। ফরিদপুরে অর্জন হয়েছে ৯৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, কয়েকটি ইউনিট এখনো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। ঢাকা উত্তরে ১০ হাজারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮ হাজার ৫০৮টি মার্চেন্ট অনবোর্ড হয়েছে, অর্জন ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৫০০টির বিপরীতে ৭ হাজার ৭৪টি, অর্জন ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং নোয়াখালীতে ৭ হাজারের বিপরীতে ৫ হাজার ৭১৪টি মার্চেন্ট অনবোর্ড হয়েছে, অর্জন ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সবচেয়ে কম অগ্রগতি দেখা গেছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা দক্ষিণে। চট্টগ্রামে ৯ হাজারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫ হাজার ৮৪টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হয়েছে, অর্জন ৫৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সিলেটে ৬ হাজার ৩০০টির বিপরীতে ৩ হাজার ৬৬১টি মার্চেন্টযুক্ত হয়েছে, অর্জন ৫৮ দশমিক ১১ শতাংশ। আর ঢাকা দক্ষিণে ১১ হাজার ১০০টির বিপরীতে ৬ হাজার ৭৬৫টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হয়েছে, অর্জন ৬০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে ব্যাংকটি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। বিশেষ করে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মার্চেন্টদের মধ্যে এ সেবার আগ্রহ বাড়ছে।

জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মার্চেন্ট অনবোর্ডে শতভাগের বেশি অর্জন এবং বাংলা কিউআর লেনদেনে ১ কোটি টাকার মাইলফলক ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রতিফলন।