সৌদিতে ভালো চাকরির প্রলোভনে পাচার, গ্রেপ্তার ১

সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একজনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ছয় লাখ টাকা। তবে নির্ধারিত চাকরি না দিয়ে তাকে আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে মানব পাচারচক্রের সদস্য সালমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে বিকেলে সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ছুফি উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার সালমান সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার শহীদ শেখের ছেলে। সিআইডি জানিয়েছে, সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় মানব পাচারকারী চক্রটি। প্রস্তাবে রাজি হলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেয় তারা। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তবে সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, বরং গ্রেপ্তার সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে একটি বাসায় আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে একটি মরুভূমি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। এরপর গত ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাভার থানায় মামলা করেন। সিআইডি আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার সালমান হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সৌদি আরবে সালমানের বাসায়ই আটক ছিলেন।