নৌযান বন্ধ, জরুরি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় ঘাটেই বৃদ্ধের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী ওসমান গণিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্বজনরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। শেষ পর্যন্ত একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা হলেও ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওসমান গণি। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা।

নিহত ওসমান গণি সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের আবুর গো বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওসমান গণি। পথে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে স্বজনরা মুমূর্ষু ওসমান গণিকে নিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলারসহ নিয়মিত নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

আহত স্বজনকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে ঘাটে ছোটাছুটি করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। স্পিডবোটে ওঠার আগেই ঘাটে ওসমান গণির মৃত্যু হয়।

বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছেলে ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘বাবার জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো সময়ক্ষেপণ করিনি। কিন্তু প্রকৃতির কাছে আমরা অসহায় হয়ে গেলাম। বাবাকে বাঁচানোর জন্য ছুটেছি, অথচ ঘাটেই তাকে হারাতে হলো।’

ওসমান গণির নাতি ও সাংস্কৃতিক কর্মী এম. এ. মান্নান নাবিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে বিনা চিকিৎসায় আর কত স্বজনকে আমাদের হারাতে হবে? আহত নানার দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঘাটে জরুরি রোগী পারাপারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তাকে হারাতে হয়েছে।’

এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। 

স্থানীয়দের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হলেও মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি, গুরুতর আহত ব্যক্তি কিংবা অন্যান্য জরুরি রোগী পারাপারের জন্য গুপ্তছড়া ঘাটে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। জরুরি রোগী পারাপারে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ওসমান গণির মতো আরও মানুষকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া দেশ রুপান্তর'কে বলেন, সন্দ্বীপের রোগী পারাপার দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটির স্থায়ী সমাধানের জন্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাওরের উপযোগী সী-এম্বুলেন্স সাগরে কেন? কেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ব্যবহৃত স্পীড বোট গুলো এইখানে দেওয়া হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।