নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ২

নিউইয়র্কের পর্যটকে ঠাসা টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন হামলাকারী এক নারীও।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনের বেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, হামলায় আহত আরেক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস কুইন্সের বাসিন্দা। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, সিসনেরোস একটি পরিচিত সুপারমার্কেট চেইনের লোগোযুক্ত ব্যাগ থেকে দুটি বড় ছুরি বের করে পথচারীদের হুমকি দিতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে তিনি ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে আক্রমণ করে তার পেটেও ছুরিকাঘাত করেন। পরে ওই নারী মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসনেরোসকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে।

কমিশনার টিশ বলেন, 'কর্মকর্তারা চার মিনিট ধরে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ছুরি ফেলে দিতে তাকে বারবার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান।'

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল পিক্স ১১-কে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই নারীর দুই হাতেই দুটি ছুরি ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, 'তারা তাকে দুবার গুলি করে।'

পুলিশ জানিয়েছে, গুলি চালানোর আগে সিসনেরোসকে থামাতে স্টান গান ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ কমিশনার টিশ বলেন, এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে তারা মনে করছেন না।

তিনি বলেন, 'টাইমস স্কয়ারের প্রাণকেন্দ্রে এটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল।'

টিশ আরও বলেন, 'যেকোনো সময় এই সড়কগুলো দিয়ে হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী, যাত্রী, পর্যটক, পরিবার ও কর্মজীবী মানুষ চলাচল করেন।'