মানুষ ভুল করে। কখনো জেনে, কখনো না জেনে। কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায়, কখনো শয়তানের প্ররোচনায়। গুনাহের পর মানুষের মনে অপরাধবোধ জন্ম নেয়। মনে হয়, এই পাপ হয়তো তার জীবনের সব ভালো কাজ মুছে দিয়েছে। আল্লাহর রহমত থেকে সে হয়তো দূরে সরে গেছে। কিন্তু কোরআন মুমিনকে হতাশ হতে দেয় না। কোরআন মুক্তির পথ দেখায়। তা হলো তওবা। তওবার মাধ্যমে মানুষ ফিরে আসতে পারে। শুধু ফিরে আসাই নয়, আন্তরিক তওবার মাধ্যমে তার অতীতের পাপও পুণ্যে পরিণত হতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে কেউ তওবা করলে, ইমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান ৭০)
তওবা কি? তওবা কি শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম? না। তওবার কিছু শর্ত রয়েছে। গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, তা ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প তওবার অপরিহার্য শর্ত। মানুষের অধিকার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়াও জরুরি। এরপর সুদৃঢ় ইমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনে পরিবর্তন আনতে হয় এবং এর উপর অটল থাকতে হয়। তাহলে এতে পাপ পুণ্যে পারিণত হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জাহান্নাম থেকে সবার শেষে উদ্ধারপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সবার শেষে প্রবেশকারী লোকটি সম্পর্কে আমি অবশ্যই জানি। কেয়ামতের দিন তাকে উপস্থিত করে ফেরেশতাদের নির্দেশ দেওয়া হবে, এ ব্যক্তির সগিরা গুনাহগুলো তার সামনে পেশ করো, আর কবিরা গুনাহগুলো (আলাদা) তুলে রাখো।
ফেরেশতারা তার সম্মুখে সগিরা গুনাহগুলো উপস্থিত করবেন। আর তাকে (ধমকের সুরে) বলা হবে, তুমি অমুক দিন এই পাপ কাজ করেছিলে? অমুক দিন সেই কাজ করেছিলে? সে বলবে, হ্যাঁ! সে কোনোটি অস্বীকার করতে পারবে না।
আর কবিরা গুনাহগুলো উপস্থিত করা হবে কিনা, সে সেই ভয় করতে থাকবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, তোমার এক একটি গুনাহের পরিবর্তে এক একটি নেকি দেওয়া হলো।
লোকটি বলবে, হে প্রতিপালক! আমি আরো অনেক অন্যায় কাজ করেছি, যেগুলো এখানে দেখছি না।
বর্ণনাকারী বলেন, (এ কথা বলার সময়) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাঁতগুলো পর্যন্ত ভেসে উঠল। (সহিহ মুসলিম ১৯০)
তাই আসুন, আর দেরি নয়। আজই যাবতীয় পাপকাজ পরিত্যাগ করে তওবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসি। তিনি আমাদের গুনাহগুলো পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।