এফএইচ হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন: ১৫ দিনেও তদন্তে অগ্রগতি নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলে প্রভোস্ট কর্তৃক শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ হয়নি। তদন্ত কমিটির সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে, যা আগামী সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে, ১৬ আগস্ট ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে হলের প্রভোস্ট ড. ইলিয়াস আল মামুন তার কক্ষে ডেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মোবাইল ফোন জব্দ এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে প্রভোস্ট কার্যালয় শিক্ষার্থীদের অবরোধকালে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এমনকি প্রক্টরকেও দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেতে দেখা যায়। এ সময় প্রভোস্টকে উদ্ধারে আসা দুজন প্রো-ভিসিসহ প্রক্টর আটকা পড়েন। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে প্রভোস্টকে বাইরে বের করে নিয়ে যায়।

তদন্তের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল তদন্ত কমিটি আমাকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য নিয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। এখনো প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি এবং তদন্তে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।’

হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এক সপ্তাহ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।’

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘এ ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকজ নোটিশ দিয়েছে। আমরা কি সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যাচ্ছি? হাসিনা আমলের রাজনীতি আবার কেউ করতে চাইলে তাদের পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।’

তবে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ভুল করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের সব কাজ শেষ হবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত সুষ্ঠু করতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমি তদন্ত কমিটিকে বারবার বলেছি দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য। আশা করি, শিগগিরই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’