বাংলামোটরে সিগন্যাল ছাড়ার অনুরোধ: ঘটনার ব্যাখ্যা দিল ডিএমপি

রাজধানীর বাংলামোটর ক্রসিংয়ে শিশুর অসুস্থতার কথা জানিয়ে সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করা এক ব্যক্তিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সংবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, ঘটনার ভিডিও ও সংবাদে প্রকৃত পরিস্থিতি আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ডিএমপি জানায়, গত ৩০ আগস্ট বেলা ৩টা ১০ মিনিটে রমনা ট্রাফিক জোনের আওতাধীন বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, বাংলামোটর ক্রসিংয়ের রূপায়ণ টাওয়ারে এনসিপির দলীয় প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ওই দিন গুম ও হত্যার প্রতিবাদে এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ কর্মী-সমর্থক দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে ক্রসিংয়ের বিভিন্ন দিকে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে উত্তর-দক্ষিণমুখী সিগন্যাল চালু রাখা হয়েছিল। ডিএমপির ভাষ্য, ওই সময় পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল চালু করলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় যানবাহন ক্রসিংয়ে আটকে পড়ত। এতে পুরো ক্রসিংয়ে ডেডলক বা যানচলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এর মধ্যেই এক ব্যক্তি দায়িত্বপালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের কাছে গিয়ে তার শিশুর অসুস্থতার কথা জানিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ভিডিওতে ওই কথোপকথনের অংশ দেখা যায়।

ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ওই ব্যক্তিকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, সড়কে বিপুল জনসমাগম থাকায় পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগম সরে গেলে সিগন্যাল খুলে দেওয়া হবে। এরপরও ওই ব্যক্তি বারবার সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন।

পরে তাকে উত্তর অথবা দক্ষিণমুখী পথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, ওই দুই দিকে তখন যানচলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ওই ব্যক্তি বিকল্প পথে যেতে রাজি হননি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বাংলামোটর ক্রসিংয়ের কাছাকাছি চলে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রসিংয়ের সার্বিক যানচলাচল ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বপালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপি বলেছে, পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল বন্ধ রাখার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গমনাগমনের জন্য নেওয়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। বিপুল জনসমাগমের কারণে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্রসিংয়ে অচলাবস্থা এড়াতেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও সংবাদে ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে না ধরায় পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ডিএমপির মতে, এটি অসত্য বা আংশিক তথ্যের কারণে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝি।

সংস্থাটি এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনা প্রচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ ও সত্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।