জামালপুরে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু

জামালপুরের দুই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার পুরোনো রেললাইন এলাকায় বসতঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করতে গিয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দাদি গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আব্দুর রশিদের ঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে তাঁর ছেলে রাজু সেটি মেরামত করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছেলেকে বাঁচাতে মা লাকী আক্তার এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। দুজনকে ছটফট করতে দেখে দাদি বুলি বেগম তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মা লাকী আক্তার ও ছেলে রাজুর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত বুলি বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী লাকী আক্তার (৪০) ও তাঁর ছেলে রাজু আহমেদ (১৪)। আহত বুলি বেগমের বয়স ৬০ বছর।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মেলান্দহ উপজেলার কোনামালঞ্চ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুনাইদ (১৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জুনাইদ হাজরাবাড়ী রেখিরপাড়া এলাকার সোলাইমান ইসলাম কাজলের ছেলে। সে কোনামালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার আগেই জুনাইদ বাইরে খেলতে যায়। এর মধ্যে মাদ্রাসার ছুটি হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তার বইসহ কক্ষটি তালাবদ্ধ করে চলে যায়। পরে বই নেওয়ার জন্য জুনাইদ মাদ্রাসার কক্ষের চালের নিচ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।