এক আবেদনেই কলেজে ভর্তি

এক আবেদনেই শেষ হবে এবারের একাদশ শ্রেণির কলেজে ভর্তি। প্রতিবছর প্রথম দফায় আবেদনের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার সেই সুযোগ থাকছে না। আজ বুধবার থেকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর পছন্দক্রম অনুসারে যে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত (১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলে) হবে সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে হবে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পাস করে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা এসব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আজ বুধবার থেকে আগামী আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টার মধ্যে

www.xiclassadmission.gov.bd  এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আবেদনে একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুসারে নির্বাচন করতে পারবে। তবে যে কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক সেই কলেজকে প্রথমে এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে কম পছন্দের কলেজগুলোকে শেষের দিকে তালিকায় রাখতে হবে। আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম ও তাদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্বাচন করে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।

পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর : একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর আবেদনের মেয়াদ শেষ হলেও পুনঃনিরীক্ষণে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেছে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ। এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় এবার ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণ তথা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিল। আবেদনকৃত এসব শিক্ষার্থীর অনেকের ফল ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হতে পারে। তাই এসব শিক্ষার্থী যাতে পরিবর্তিত ফলের আলোকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারে সেজন্য ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর (রাত ৮টা পর্যন্ত) নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের সুযোগ পাবে।

পরিবর্তন করা যাবে পছন্দক্রম : আবেদনের সময় সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই পছন্দক্রমের আলোকেই কলেজ নির্বাচন চূড়ান্ত হবে। তাই পছন্দক্রম বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ও পছন্দের ভিত্তিতে মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচিত ফল প্রকাশ করা হবে। তাই পছন্দের ক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিকে পছন্দের ক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সব আবেদনকারী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে চাইলে তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবে।

নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে : পছন্দক্রম পরিবর্তনের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ১৭ তারিখ ফল প্রকাশের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে সবাইকে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে নিশ্চায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ যে কলেজে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেই কলেজে ভর্তির জন্য নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন,‘সব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই নিশ্চায়ন করতে হবে। নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। তাদের ক্ষেত্রে ভর্তির আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’

যুক্ত করা হয়েছে মাইগ্রেশন সুবিধা : প্রথমবারের প্রকাশিত ভর্তি নীতিমালায় মাইগ্রেশন (এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে স্থানান্তর) সুবিধা ছিল না। তবে গত ৩১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ভর্তির সংশোধিত নীতিমালায় মাইগ্রেশন সুবিধা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়নের পর বিভিন্ন কলেজে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমানুসারে অটো মাইগ্রেশন তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এই তালিকা প্রকাশের পর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তিতে সময় কম দেওয়া হলো কেন? : ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথম পর্যায়ের আবেদন, দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন ও তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন শুরু হয়েছিল ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে। এবারের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার মাত্র একবারই আবেদন করার সুযোগ পাবে। তখনকার সময়ের সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, প্রথম পর্যায়ে যেসব শিক্ষার্থী আবেদনের সময় পেতো না তাদের আমরা একটা সুযোগ দিতাম। কিংবা প্রথম নির্বাচিত ফলে কারও কলেজ পছন্দ না হলে সেই শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করত না, তখন সেই শিক্ষার্থী আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে আবারও আবেদন করত।

এবারের ভর্তিতে এই সুযোগ রাখা হয়নি কেন জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বন্যার কারণে এবার এমনিতে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়া কমিয়ে আনতে এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ না পেয়ে থাকে তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে আমরা বিকল্প চিন্তা করব।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শাহীন আলরাজী বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় সময়টা একটু কম হয়েছে মনে হচ্ছে। তারপরও যারা বাদ থাকবে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো অনেক শিক্ষার্থী উপকৃত হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীকে শুধু কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় ছাড়া এর আগে কলেজে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অনলাইন পদ্ধতিতে ঘরে বসেই আবেদন ও ভর্তি নিশ্চায়ন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।