টেকনাফে নিউ জামাল মার্কেটে আগুনে পুড়ল ১৫ দোকান  

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা স্টেশনে অবস্থিত নিউ জামাল মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে লাগা এই আগুনে মার্কেটের কাপড় ও রঙের দোকান এবং ইলেকট্রনিক্স শোরুমসহ অন্তত ১৫টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও আংশিক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে মার্কেটের ভেতর মিয়ার দোকান নামে একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা জীবন বাঁচাতে ও মালামাল সরাতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট। স্থানীয় জনতার সহায়তায় দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ১৫ বড় দোকান ও শোরুম পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোছাইন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মার্কেটের একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকানে কাজ চলাকালীন অসাবধানতাবশত এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগুনে আমাদের এলাকার বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে বেচাকেনা চলাকালীন হঠাৎ আগুন লাগায় তারা অধিকাংশ মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি। চোখের সামনেই কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এখন নির্বাক। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের আশঙ্কা, চূড়ান্ত হিসাব করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।